

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারের দাম ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগের দিন বুধবারও উভয় সূচকের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। এতে তেলের দাম মঙ্গলবার স্পর্শ করা এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান আরও আঞ্চলিক জ্বালানি রফতানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘অস্তিত্বের যুদ্ধে’ লিপ্ত রয়েছে। নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে তেল কেনার প্রবণতা জোরদার হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যস্থতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বাজারের সাধারণ ধারণা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনও কম। তবে সংঘাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো। গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও শুরু হয়। কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর জুনে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, নতুন সংঘাতে সেটিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের বাব এল-মানদেব প্রণালীর প্রবেশপথ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে নতুন একটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি সরবরাহ পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে। এদিকে গোল্ডম্যান স্যাক্স জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানি স্বাভাবিক হতে দেরি হলে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে উত্তেজনা কমে গেলে এবং উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়লে বছর শেষে দাম ৬০ ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। যদিও বিশ্লেষকরা মজুত ২৬ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।