

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২ ডলার প্রতি ব্যারেল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। এমনকি সংঘাত দ্রুত শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এরই মধ্যে ইরান, কাতার ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের তেলক্ষেত্র ও রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের বাড়তি ঝুঁকির কারণে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে।
কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী ও দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি সম্প্রতি ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, সংঘাত যদি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে জ্বালানির খরচ বাড়বে, পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে এবং শিল্প উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এক গবেষণা প্রতিবেদনে জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, বাজার এখন শুধু ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যেই নেই; এর পাশাপাশি সরাসরি কার্যক্রমগত বিঘ্নও দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রপ্তানি সীমাবদ্ধতার কারণে তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সংঘাতের কারণে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ইতোমধ্যে স্থগিত হয়ে গেছে। তেহরান উপকূল এবং ওমানের মাঝখানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যদিও ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। তবু এই রুটে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতের মতো বড় তেল উৎপাদক দেশগুলো সাময়িকভাবে তেল পরিবহন স্থগিত করেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী রিফাইনারিগুলোর জন্য প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় দেড় দিনের সমান।
রিস্টাড এনার্জির আমেরিকা অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান আমির জামান বলেন, শিপিং বিঘ্নের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেলক্ষেত্র বন্ধ হয়ে গেলে সেগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, খাদ্যপণ্য এবং আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিশেষ করে এশিয়ার অনেক দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন
