রবিবার
১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রূপালী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানসহ ১১ জনকে জরিমানা

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
কোম্পানির লোগো।
expand
কোম্পানির লোগো।

বহুল বিতর্কিত রূপালী ইন্স্যুরেন্সের শীর্ষ ব্যক্তিদের জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে বীমা খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুস সোবহানসহ ১০ পরিচালক ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) জরিমানা করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গেল মার্চ মাসে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানার আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে তাদের ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা জায়, জরিমানার আদেশে বলা হয়েছে যে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল) কর্তৃক আরেকটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের (এনসিআরএল) বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এনফোর্সমেন্ট বিভাগের শুনানিতে রূপালী ইন্স্যুরেন্সে বেশকিছু সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে আসে। ওই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বীমা কোম্পানিটির ১০ জন পরিচালককে ১ লাখ করে মোট ১০ লাখ এবং সাবেক সিইওকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তথ্য মতে, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে সিআরআইএসএলের একটি চুক্তি ছিল। যার অধীনে ২০১৮ সালের প্রাথমিক রেটিং এবং পরবর্তী তিন বছরের (২০১৯, ২০২০, ২০২১) নজরদারি (সার্ভিল্যান্স) রেটিং করার কথা ছিল। তবে রূপালী ইন্স্যুরেন্স সিআরআইএসএলের সঙ্গে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের রেটিং সম্পন্ন করার আগেই এনসিআরএলের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে এবং রেটিং প্রকাশ করে।

বিএসইসির ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিজ রুলস, ২০২২-এর ১০(১)(ই) বিধি অনুযায়ী, একটি চুক্তি হওয়ার পর প্রাথমিক রেটিং এবং টানা তিনটি নজরদারি রেটিং শেষ করার আগে তা বাতিল করা যায় না। কোনো কারণে চুক্তি বাতিল করতে হলে সেক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার শুনানিতে রূপালী ইন্স্যুরেন্স আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানায় যে তারা কোনো চুক্তি ‘বাতিল’ করেনি, বরং সিআরআইএসএলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এনসিআরএলের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সিআরআইএসএল নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং আইনি বাধ্যবাধকতায় নতুন চুক্তি করতে বাধ্য হয়। সিআরআইএসএল ও এনসিআরএলের মধ্যকার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে কোম্পানিটি দাবি করে।

তবে বিএসইসি এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। এক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতার জন্য বিএসইসির পক্ষ থেকে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আলী আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, কাজী মনিরুজ্জামান, কেএম ফারুক, আবু হেনা, শাওন আহমেদ, মো. ওবাইদুল হক, মোস্তফা কামরুস সোবহান ও ফজলুতুন নেসা, সাবেক সিইও ফাওজিয়া কামরুন তানিয়াসহ প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ অর্থদণ্ড ব্যক্তিগত দায় হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে এ টাকা জমা দিতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন