

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে ফ্রি ট্রেড জোন (FTZ) কার্যক্রমকে আরও সহজ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ফ্রি ট্রেড জোনে পণ্য আমদানি, সংরক্ষণ, বিক্রয়, অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ফ্রি ট্রেড জোনে আমদানি কার্যক্রম সহজ করা এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলার (Authorized Dealer-AD) এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (OBU)-গুলোকে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করে এসব লেনদেন পরিচালনা করতে হবে।
কারা আমদানি করতে পারবে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রি ট্রেড জোনে তিন ধরনের প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারবে—
উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান;
অনুমোদিত ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী আমদানিকারক;
ফ্রি ট্রেড জোনে অনুমোদিত লজিস্টিকস সেবা প্রতিষ্ঠান।
কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ
ফ্রি ট্রেড জোনে গুদামজাত, সংরক্ষণ বা বিতরণের উদ্দেশ্যে কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়া বা চূড়ান্ত ক্রেতার কাছে বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছেই থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্যকে ফ্রি ট্রেড জোনের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মজুদ (Inventory) হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। ফলে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি নির্ধারণেও এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
দেশে বিক্রি হলে আমদানি হিসেবে গণ্য
ফ্রি ট্রেড জোন থেকে বাংলাদেশের কোনো ক্রেতা—বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা অন্য ফ্রি ট্রেড জোনসহ—পণ্য কিনলে সেটিকে আমদানি হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে প্রচলিত আমদানি বিধি এবং IMP সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, ফ্রি ট্রেড জোনের কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের ক্রেতার কাছে প্রস্তুত বা আধা-প্রস্তুত পণ্য বিক্রি করলে বিক্রেতার জন্য সেটি রপ্তানি এবং ক্রেতার জন্য আমদানি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে যথাক্রমে EXP ও IMP প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
২৭০ দিন পর্যন্ত ঋণ সুবিধা
শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদের Usance Import Facility বা বিলম্বিত পরিশোধ সুবিধা দেওয়া যাবে।
এছাড়া ক্রেতার ঋণ (Buyer's Credit) অথবা সরবরাহকারীর ঋণ (Supplier's Credit) সুবিধাও সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের জন্য অনুমোদনযোগ্য হবে।
বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন
সব ধরনের লেনদেন ফ্রিলি কনভার্টিবল বৈদেশিক মুদ্রায় নিষ্পত্তি করতে হবে। ফ্রি ট্রেড জোনের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের রপ্তানি আয়ের অর্থ নির্ধারিত বিদেশি মুদ্রা হিসাব (Margin Account)-এ রাখতে পারবে, যা পরবর্তীতে বিদেশি সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।
পণ্য কতদিন রাখা যাবে
কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য প্রযোজ্য নিয়ম মেনে ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত ফ্রি ট্রেড জোনে সংরক্ষণ করা যাবে।
ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কনসাইনমেন্ট ভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত পণ্যের মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক কোনো ঋণ ঝুঁকি (Credit Exposure) গ্রহণ করতে পারবে না।
শুধু পণ্যের মালিকানা স্থানান্তর হওয়ার পর এবং বিল অব এন্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের ভিত্তিতে ব্যাংক অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
গ্রাহক যাচাই বাধ্যতামূলক
ব্যাংকগুলোকে ফ্রি ট্রেড জোনের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে যথাযথ Due Diligence করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে—
বিদেশি সরবরাহকারী ও ক্রেতার সঙ্গে চুক্তি যাচাই;
মালিকানা কাঠামো পরীক্ষা;
উৎপাদন ও বিক্রয় চক্র মূল্যায়ন;
লেনদেন-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিশ্চিত করা।
কী প্রভাব পড়বে
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে ফ্রি ট্রেড জোনে আন্তর্জাতিক মানের কনসাইনমেন্ট ট্রেড, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি নিরূপণেও একটি স্পষ্ট নীতিমালা কার্যকর হবে।