বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলেকট্রিক ও রিকন্ডিশন গাড়ির মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ এএম
আবদুল হক
expand

দেশে ব্যবহৃত গাড়ি আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিকেলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল হক। দেশের অটোমোবাইল খাতের শুল্ক কাঠামো, হাইব্রিড ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গাড়ি আমদানি সহজীকরণসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারের বর্তমান সংকট, ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) নিয়ে সরকারের নীতি, শুল্ক বৈষম্য এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

প্রশ্ন : দেশে প্রতিবছর কী পরিমাণ রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়?

আব্দুল হক : কয়েক বছর আগেও বছরে প্রায় ২৫-২৬ হাজার রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হতো। বর্তমানে তা কমে গেছে। গত বছর প্রায় ২০ হাজার গাড়ি আমদানি হয়। এর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৯,৪০০টির মতো। অর্থাৎ আমদানির তুলনায় বিক্রি অনেক কমেছে।

প্রশ্ন : রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারের আকার কত?

আব্দুল হক : গাড়ির মডেল ও দামের পার্থক্যের কারণে সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে এ খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। গাড়ির মোট বাজারমূল্য ধরলে তা ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাসংবাদপত্র

প্রশ্ন :গাড়ির দাম কেমন?

আব্দুল হক : শেপ চেঞ্জের হিসাবে শতাধিক মডেল রয়েছে। রিকন্ডিশন এক্সিও গাড়ির দাম ২৫ থেকে ৩২ লাখ টাকা। আবার ২১-২২ লাখ টাকার গাড়িও আছে। বেশি দামের গাড়ি দেড় থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হয়। তবে আমদানি শুল্ক বাড়ার কারণে বিশেষ করে তেলের গাড়ির দাম বেড়েছে।

প্রশ্ন : শুধু জাপান থেকেই রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়?

আব্দুল হক : বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শুধু জাপান থেকেই রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির অনুমতি রয়েছে। জাপানি গাড়ির মান অত্যন্ত ভালো। পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো জাপানে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এ কারণেই বিশ্বের শতাধিক দেশ জাপান থেকে গাড়ি আমদানি করে।

প্রশ্ন : রিকন্ডিশন গাড়ির মূল সংকট কোথায়?

আব্দুল হক : নতুন ও রিকন্ডিশন গাড়ির শুল্কের ক্ষেত্রে অনেক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। রিকন্ডিশন গাড়ি খাতের বিশাল অর্থনীতি সম্ভবত বিবেচনায় নেয়নি সরকার। ইভিতে সর্বনিম্ন কর ৬৪.২৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২২৩ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ আমাদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্নই প্রায় ৯৬ শতাংশ।

সরকার ইভিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, এর যৌক্তিকতা আমরা বুঝি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গ্রিন এনার্জির দিকে যাওয়া দরকার। কিন্তু ইভিকে সুবিধা দিতে গিয়ে রিকন্ডিশন গাড়ির সঙ্গে বৈষম্য করা হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। জাপানি গাড়ি দীর্ঘদিন টেকসই এবং এর পুনর্বিক্রয় মূল্যও ভালো। অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তির ইভির ব্যাটারির স্থায়িত্ব, পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

প্রশ্ন : ইভির কারণেই কি রিকন্ডিশন ব্যবসা হুমকিতে?

আব্দুল হক : ইভি একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। এটাকে হুমকি মনে করলে তো ইভি থেমে থাকবে না। আমরা ইভির বিরোধিতা করছি না। কিন্তু ইভি আনার জন্য সরকার যখন অতিরিক্ত সুবিধা দেয় এবং রিকন্ডিশন ইভি আমদানি বন্ধ করে, তখন বৈষম্য তৈরি হয়।

উন্নত দেশগুলোয় এমনটা করা হয়নি। যুক্তরাজ্যে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান ও ব্যাটারি সার্টিফিকেশনের শর্ত রয়েছে। আমাদেরও মান, নিরাপত্তা ও ব্যাটারি সার্টিফিকেশনের শর্ত দেওয়া যেতে পারে। প্রতিযোগিতার জায়গাটা থাকতে হবে। এতে ভোক্তা উপকৃত হবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হতে পারে।

প্রশ্ন : বারভিডা দেশের অর্থনীতিতে কতটা অবদান রাখছে?

আব্দুল হক : দেশে যত গাড়ি দেখা যায়, তার প্রায় ৯০ শতাংশ আমাদের সদস্যরা সরবরাহ করেন। এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত হয়েছে। এখানে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে, অনেক মানুষ কাজ করছেন এবং সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোক্তার পছন্দ। সরকার কোনো একটি প্রযুক্তিকে সুবিধা দিতেই পারে। কিন্তু ভোক্তা সেটি গ্রহণ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রশ্ন : রিকন্ডিশন গাড়ি দিয়ে বাংলাদেশকে ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে।

আব্দুল হক : এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও জাপান থেকে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়। সেখানে মানের ক্ষেত্রে কিছু ইমিউশন স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করতে হয়। আমাদেরও মান নির্ধারণ করে তা অনুসরণ করানো যেতে পারে। আমাদের ব্যবসা উন্মুক্ত এবং এখানে প্রতিযোগিতা রয়েছে। এতে ভোক্তা সুবিধা পাচ্ছেন, সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে।

প্রশ্ন : চলতি বাজেটে বারভিডা সন্তুষ্ট?

আব্দুল হক : সন্তুষ্ট বলব না। ইভি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন আনা হয়নি। ইভিকে সুবিধা দিতে গিয়ে রিকন্ডিশন গাড়ির জন্য যে নীতিগত বৈষম্য তৈরি হয়েছে, সেটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। জনস্বার্থ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

সূত্র: আমার দেশ

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank