

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনের অভাব বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারের সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
শনিবার (২৭ জুন) ডিসিসিআই ও বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ সরকারও কর ও শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চার্জিং অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগে আরও প্রণোদনা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ থ্রি-হুইলার চলাচল করলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত ইভি গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৬৬৯টি। সম্ভাবনাময় এই খাতের উন্নয়নে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, ইভি খাতের সফলতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাতটি তদারকির জন্য একটি সমন্বিত সেল বা সংস্থা গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, ইভি খাতের জন্য একটি নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, এ নীতিমালার মূল লক্ষ্য আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
সেমিনারে স্রেডার পরিচালক মো. আমিনুর রহমান জানান, দেশে এ পর্যন্ত ৩২টি ইভি চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে স্থাপিত হয়েছে। তিনি চার্জিং স্টেশন ও ইভি আমদানিতে মান নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি ও রানার অটোমোবাইলস পিএলসির চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, ইভি শিল্প নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো গেলে দেশের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, পরিবহন খাতে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ইভির ব্যবহার বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বুয়েট, ইডকল, আকিজ মোটরসসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সেমিনার শেষে জ্বালানি নীতিমালা, উদ্ভাবন ও বাজার উন্নয়নে সহযোগিতার লক্ষ্যে ডিসিসিআই ও বিএসআরইএর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।