

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচারকাজে দেশের ব্যাংক খাত থেকে পৌনে চার কোটি টাকা পেয়েছে তিনটি সংগঠন। স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন ফাউন্ডেশন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি—এই তিনটি সংগঠনকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এবিবি ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনের জন্য অনুদান দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)’ তহবিল থেকে মোট ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে এক কোটি টাকা পায় স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন ফাউন্ডেশন।
আর বেসরকারি ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, এবিবির তহবিল থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা দেওয়া হয় সুজনকে এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে দেওয়া হয় ২০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এনপিবি নিউজকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)’ থেকে গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা বাবদ এক কোটি টাকা দেওয়া হয় স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন ফাউন্ডেশনকে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ফাউন্ডেশনটি যৌথমূলধনী ও ফার্মসমূহের অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হয়। সামাজিক সংগঠনটি গণভোট ২০২৬-কে সফল করার লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন করে।
অনলাইন রেফারেন্ডাম প্রচারণা, রেফারেন্ডাম কনসার্ট এবং স্ট্র্যাটেজিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও একটি ন্যাশনওয়াইড ইয়ুথ এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন—এই তিন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ চাওয়া হয়। অর্থ খরচের পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
অনুদানের অর্থ খরচের বিষয়ে অডিটেড রিপোর্ট জমা দিয়েছে স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন ফাউন্ডেশন—জানিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, “রিপোর্ট জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।”
অন্যদিকে তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নির্দেশনায় সুজনকে মোট ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা গণভোটের প্রচারের জন্য দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “তৎকালীন গভর্নর মহোদয় এবিবির নেতাদের তার অফিসে ডাকেন। তিনি (গভর্নর) ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার জন্য দিতে বলেন।”
এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত নির্দেশনা চায় এবিবি। ব্যাংক পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া যাবে না বলেও জানায় তারা।
তখন ব্যাংকের বদলে এবিবির তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি ঠিক হয়—উল্লেখ করে মাসরুর আরেফিন বলেন, “এখানে যা কিছু হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এবিবির নেতাদের পরপর দুটি বৈঠকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। এবিবি তহবিল থেকে সুজনকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে ২০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তারা খরচের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।”
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে দেওয়া টাকার নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সুজনের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “সংস্কার ও সুশাসনের জন্য আমরা কাজ করে আসছি। গণতন্ত্র দুর্বল হলেও সুশাসন ঠিক থাকলে রাষ্ট্র কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবিবি থেকে যে অর্থ খরচ করা হয়েছে, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে; প্রতিটি টাকার হিসাব আছে। মানুষকে সচেতন করতে এ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা খরচের প্রাথমিক হিসাব দিয়েছি। এখন অডিট চলছে; অডিট শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ অডিটেড রিপোর্ট দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকের টাকা, অর্থাৎ জনগণের টাকা। এই টাকা রাষ্ট্র ও জনকল্যাণে খরচ করা হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম থামিয়ে দিতে একটি গোষ্ঠী সুজনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
মন্তব্য করুন