

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের অন্যতম চেইন সুপার শপ স্বপ্ন। বিগত সময়ে নানান অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি এবার তার গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসও আটকাতে পারেনি। স্বপ্ন সুপারশপ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালি ও উদাসীনতায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে এর ৪০ লাখ গ্রাহক। ৯ মাসের বেশি সময় আগে হ্যাকাররা তথ্য হ্যাক করলেও গ্রাহকদের কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে স্বপ্নের কত গ্রাহক কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার কোনো তথ্য কারো কাছে নেই।
আব্দুল হাকিম। বাংলাদেশের অন্যতম একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গেল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আব্দুল হাকিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৭ হাজার টাকা উত্তোলন করে হ্যাকাররা। এ বিষয়ে ব্যাংকে জানানো হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে বলে জানায়। এরমধ্যেই আব্দুল হাকিম থানায় জিডি করেন। সেই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, একটি প্রতারক চক্র গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করেন। আব্দুল হাকিম স্বপ্নের নিয়মিত গ্রাহক। একই মোবাইল নাম্বার এবং তথ্য দিয়ে স্বপ্ন এবং তার ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলা।
সম্প্রতি জানা গেছে, স্বপ্ন সুপার শপের নিবন্ধিত ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হ্যাক করেছে একটি হ্যাকার গ্রুপ। কর্তৃপক্ষের দাবি, গেল বছরের মাঝামাঝিতে হ্যাকার গ্রুপটি স্বপ্নের ডেটা হ্যাক করে। এর বিনিময়ে ১৫ লাখ ডলার দাবি করে। স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ দাবি করা ডলার না দেওয়ায় হ্যাকার গ্রুপটি তথ্য ফাঁস করে দেয়। যদিও এই বিষয়ে কোনো ধরণের সাধারণ ডায়েরি কিংবা মামলা করেনি স্বপ্ন। তথ্য ফাঁস করার পরে রাজধানীর একটি থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্বপ্নের ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আব্দুল হাকিম। তিনি এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘স্বপ্ন কর্তৃপক্ষের এমন শিশুসুলভ কাজের জন্য আমি হতাশ। তথ্য হ্যাক হওয়া এখনকার সময়ে বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু যদি জানা যায় যে তথ্য হ্যাক হয়েছে তাহলে অগ্রীম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। অথচ স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। আমি শিউর না যে স্বপ্নের তথ্য নিয়েই আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে কি না।’
দেশের অন্যতম বৃহৎ রিটেইল চেইন স্বপ্ন সুপার শপ সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্কে আবারও আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ গ্রাহক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি, অতীতের বিভিন্ন অনিয়মও নতুন করে সামনে আসছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট অভিযানে স্বপ্নের কিছু শাখায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট পণ্য বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব ঘটনায় জরিমানাও করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল স্বপ্নের বিরুদ্ধে।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে স্বপ্নের বিভিন্ন শাখায়। পাশাপাশি ওজনে কম দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ক্রেতারা তাদের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য যুক্ত করে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। পরে ভুল স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও, এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে পণ্যের মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে প্রদর্শন না করা বা লেবেলিংয়ে অসঙ্গতির অভিযোগও রয়েছে স্বপ্নের বিরুদ্ধে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া এনপিবি নিউজকে বলেন, 'কোনো কোম্পানি গ্রাহকের তথ্য নিলে সেই তথ্যের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানির। সেই তথ্য হ্যাক হলে দায় কোম্পানিরই। স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ এই হ্যাকিংয়ের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। স্বপ্ন এখন বলছে, তাদের সাইবার সিকিউরিটি খুবই উন্নত করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো আগে কেন করা হয়নি এই প্রশ্ন থেকেই যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'এই হ্যাকিংয়ের পেছনে স্বপ্নের কোনো কর্মকর্তা বা কোনো কর্মী জড়িত রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করতে হবে। এ ব্যাপারে গ্রাহকরা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইন ১৮ ও ১৯ ধারায় শাস্তির জন্য এবং ৩০ ধারায় ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করতে পারবে।'
তবে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে গুরুতর বলতে নারাজ। তারা বলছে, হ্যাকাররা শুধুমাত্র অল্পকিছু তথ্য ফাঁস করতে পেরেছে।
স্বপ্নের হেড অফ লিড মার্কেটিং মাহাদী ফয়সাল এনপিবি নিউজকে বলেন, 'আমরা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত। তথ্য হ্যাকের যে বিষয়টি বলা হচ্ছে তা আমরা আগে জানলেও, কী হ্যাক হয়েছে স্পেসিফিকলি জানা ছিল না। তাছাড়া অগ্রীম মামলা করলে গ্রাহকরা আতঙ্কিত হতে পারতেন। এই ঘটনার পরে আমরা আমাদের সাইবার সিকিউরিটি উন্নত করেছি। এখনকার সিকিউরিটি ব্রিচ করে কোনো হ্যাকার গ্রুপ হ্যাক করতে পারবে না। এছাড়া আমাদের গ্রাহকদের সাধারণ তথ্য হ্যাক করলেও কার্ড বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনো বিষয় হ্যাক করতে পারেনি তা আমরা নিশ্চিত।'
মন্তব্য করুন
