

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজারের বেশি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পুকুরে সরাসরি মুরগির বিষ্ঠা (লিটার) মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই এসব বর্জ্য খামার থেকে এনে পুকুরে ফেলা হচ্ছে, ফলে পুকুরের পানি দূষিত হচ্ছে ও ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নেকমরদ-কাতিহার, চেকপোস্ট, মীরডাঙ্গী-গাজিরহাট ও চামারদিঘিসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে, পুকুরপাড়ে যত্রতত্র ফেলে রাখা হচ্ছে এসব পোল্ট্রি বর্জ্য। পথচারী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে স্থানীয়রা হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন।
একই পুকুরে বছরের পর বছর এভাবে বিষ্ঠা ব্যবহারে পানি শুধু দুর্গন্ধযুক্তই নয়, মাছ চাষের জন্যও অযোগ্য হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
কৃষি বিভাগের মতে, মুরগির বিষ্ঠা প্রক্রিয়াজাত করে মাটিতে পুঁতে রাখলে তা থেকে উচ্চমানের জৈব সার উৎপাদন সম্ভব, যা মাছ চাষেও নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কবার্তা হলো— মুরগির খাদ্যে থাকা এন্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল মাছের শরীরে থেকে গিয়ে পরবর্তীতে মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণেই সরকার মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকে চাষিদের এসব ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলেছি। তবুও তারা থামছে না। ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন

