

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মামলায় ওই উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল হাকিম আজাদ।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, এ মামলায় হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোঃ ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মোঃ উজ্জ্বলসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামী করা হয় আরো ৩০ জনকে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে পরিক্ষার খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকার লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এসময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসি। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো পৌছে দেয়া হয়।
মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতা কর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে হরিপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন