শনিবার
০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলার পেছনে ইশরাক-রাশেদের উসকানি রয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের জৈন্তাপুরে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি, পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা বহরের একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির দরজার গ্লাস ভেঙে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা এক সহযোগী আহত হন।

শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি এনসিপির। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জৈন্তাপুরে সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। রাত প্রায় ১০টার দিকে কর্মসূচি শেষ করে বহর নিয়ে রওনা দেওয়ার তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যেই চলন্ত গাড়িতে বিকট শব্দে একটি বড় ইট এসে আঘাত করে। প্রথমে ইটের আঘাতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে তার সঙ্গে থাকা এক সহযোগী গুরুতর আহত হন। পরে একই ইট তার হাতেও আঘাত করে। তার দাবি, ইটটি এখনো গাড়ির ভেতরে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলের সব আলামত সংরক্ষিত আছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আজকে আমার রক্ত ঝরেছে। এ জন্য তারেক রহমানকে কাফফারা দিতে হবে। আপনি একটি বড় ভুল করেছেন। আমি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। আমার হাতে এখনো ইটের আঘাতের দাগ রয়েছে। ইটটি যদি মাথায় লাগত, তাহলে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। আমি এটিকে আমার ওপর সরাসরি হত্যাচেষ্টা হিসেবে দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের রিমান্ডে নিয়েছিলেন। পরে তিনি তার রাজনৈতিক মূল্য দিয়েছেন। তারেক রহমান, আপনিও একটি বড় ভুল করেছেন। এ ভুলের কাফফারা আপনাকে দিতেই হবে। আপনি আমার রক্ত ঝরিয়েছেন। এর রাজনৈতিক জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হামলার পেছনে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ও রাশেদ খানের উসকানি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ ইশরাক উসকানি দিয়েছেন, রাশেদ খান উসকানি দিয়েছেন। আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত। আমি নিরাপদ নই। আমাদের সঙ্গে পুলিশ প্রটোকল ছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে চেষ্টা করেছে, তাই তাদের ওপর সরাসরি দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু আজকের মশাল মিছিলের পরপরই আমার ওপর এই হামলা হয়েছে।’

তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমি এই ঘটনায় কোনো আদালতে যাব না, কোনো আইনি ব্যবস্থা নেব না। প্রশাসনের দ্বারস্থও হব না। রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে।’

এনসিপির এই নেতা আরও দাবি করেন, হামলায় সিলেটে তাদের পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার শরীর থেকে যে রক্ত ঝরেছে, তার হিসাব আমি কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব। পরিস্থিতি অশান্ত হলে খুবই অশান্ত হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়ির পেছনে এএসপির গাড়ি ছিল, সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল, পাশে মোটরকেড ছিল। এখনো গাড়ি ভাঙা অবস্থায় আছে, ভেতরে ইট রয়েছে, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এসপি ও পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি পুলিশ তাদের অবস্থান ও চরিত্র পরিবর্তন করবে।’

এদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘দিনের তিনটি কর্মসূচিই অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনও তাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু পথসভা শেষে গাড়িবহর প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এগিয়ে যাওয়ার পর একটি নির্জন ও অন্ধকার স্থানে অতর্কিতভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ছোড়া ইটটি যদি কারও মাথায় লাগত, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারত। গাড়ির গ্লাস পুরোপুরি ভেঙে গেছে। এমন ঘটনার পর পুলিশের বক্তব্য আমাদের হতাশ করেছে।’

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম মোল্লা বলেন, হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। এরকম কিছুই ঘটেনি। সমাবেশ শেষে তাদের নিরাপদে সিলেট পৌছে দেওয়া হয়। পুরো রাস্তায় তাদের সাথে পুলিশ ছিল।

শুক্রবার এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন