

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক করিডোরে সাধারণত দেখা যায় ফরমাল পোশাকে সজ্জিত শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্যের ভেতরেই ব্যতিক্রমী সাজে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হন একজন। তিনি বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক। সম্প্রতি ফাইনাল ভাইভা পরীক্ষায় তিনি আসেন লুঙ্গি ও গামছা পরে।
শুক্রবার (১ মে) জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আশিক বলেন, ‘তোমরা চাষাভূষার টাকায় পড়াশোনা করো’— শিক্ষকদের মুখে শোনা এই কথাটি তাকে বারবার ভাবিয়েছে। কৃষক-শ্রমিকদের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতা ও বৈষম্য তাকে নাড়া দিয়েছে গভীরভাবে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অন্তত দুজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনার পর যথাযথ তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আশিকের প্রশ্ন- যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তবে কেন প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে? কেন নেই জবাবদিহি?
সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, শ্রমিক বা কৃষকের মৃত্যু যেন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্যাড রিঅ্যাক্ট’ আর সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ। তথাকথিত সুশীল সমাজও বেশির ভাগ সময় নীরব থাকে।
এই বাস্তবতার প্রতিবাদেই তিনি বেছে নেন ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা। ভাইভা বোর্ডে লুঙ্গি-গামছা পরে উপস্থিত হয়ে তিনি মেহনতি মানুষের প্রতি সংহতি জানান। আশিক বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন। তারা আমার এই প্রতিবাদের ভাষাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
শুধু প্রতীকী প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি আশিক। তিনি দেশের কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে ধান। এ অবস্থায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
মন্তব্য করুন
