

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কংক্রিটের এই ব্যস্ত নগরে লিফট এখন মানুষের দৈনন্দিন সঙ্গী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে মুহূর্তেই পৌঁছে দেয় এক তলা থেকে আরেক তলায়। কিন্তু হঠাৎ কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যখন সেই চলমান ঘরটি মাঝপথে থেমে যায়, তখন বুকের ভেতর অজানা আতঙ্ক জমতে শুরু করে। বন্ধ হয়ে আসে স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, ছোট্ট জায়গাটুকু মনে হয় শ্বাসরুদ্ধকর। অথচ এমন মুহূর্তে ভয় নয়, প্রয়োজন ঠাণ্ডা মাথা আর সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ সামান্য সচেতনতাই বিপদের সময় আপনাকে রাখতে পারে নিরাপদ।
প্রথমেই শান্ত থাকুন লিফট আটকে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আতঙ্কিত না হওয়া। লিফটের ভেতর বাতাস দ্রুত শেষ হয়ে যায়, এমন ধারণা ভুল। আধুনিক লিফটে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই চিৎকার বা অতিরিক্ত নড়াচড়া না করে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
জরুরি বাটন চাপুন প্রায় সব লিফটেই অ্যালার্ম বা ইমার্জেন্সি বাটন থাকে। সেটি চাপলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বা মেইনটেন্যান্স টিম বিষয়টি জানতে পারে। অনেক লিফটে ইন্টারকম বা ফোন সুবিধাও থাকে, সেক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মোবাইল ফোন ব্যবহার করুন নেটওয়ার্ক থাকলে পরিবারের সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী বা ভবনের দায়িত্বশীল কাউকে ফোন করুন। কোথায় আটকে আছেন, কতজন আছেন, এসব তথ্য পরিষ্কারভাবে জানান।
দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করবেন না অনেকে ভয় পেয়ে লিফটের দরজা ধাক্কা দিয়ে খোলার চেষ্টা করেন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ লিফট যদি দুই তলার মাঝখানে আটকে থাকে, তাহলে পড়ে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লাফালাফি বা ঝাঁকুনি দেবেন না লিফট চালু করার আশায় ভেতরে লাফানো বা ঝাঁকুনি দেয়া ভুল কাজ। এতে যান্ত্রিক সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এমনকি ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
আলো নিভে গেলে ফোনের ফ্ল্যাশ ব্যবহার করুন বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফটের আলো নিভে যেতে পারে। তখন ফোনের টর্চ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ করবেন না।
উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলুন বাইরে থেকে উদ্ধারকর্মীরা নির্দেশ দিলে তা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করুন। তারা দরজা খোলার আগে নিজে থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
সতর্ক থাকতে যা করবেন লিফটে ওঠার সময় খেয়াল করুন, লিফটটি মেঝের সঙ্গে সমতলে আছে কি না। একটু ওপরে বা নিচে থাকলে লিফটে উঠতে যাবেন না। যদি দেখেন লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তবে দৌড়ে উঠতে যাবেন না। দরজা বন্ধ হওয়ার সময় মাঝখানে হাত বা পা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করবেন না।অনেক লিফটে সেন্সর থাকলেও সব লিফটেই সেন্সর কাজ করবে, এমনটা আশা না করাই ভালো। তাই ধীরস্থির হয়ে অপেক্ষা করুন।
ছোট শিশুরা যেন একা একা লিফটে না ওঠে, সেদিকেও লক্ষ রাখুন। এছাড়া, মাসে অন্তত একবার পরীক্ষা করে দেখা উচিত লিফটে কোনো যান্ত্রিক সমস্যা আছে কি না।
মন্তব্য করুন
