

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হাম ও হাম উপসর্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৫ শিশু। যন্ত্রণায় তারা কাতরাচ্ছে। তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা। এ অবস্থায় এসব শিশুর পাশে থাকার কথা ছিল নার্সদের। অথচ তারা গানের তালে নাচলেন।
বিশ্ব নার্স দিবসে মঙ্গলবার (১২ মে) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ-সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক ওই সময় হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত প্রায় ৮৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মধ্যেই নিচতলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলতে থাকে। পরে নার্সদের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকলে নার্সরা রোগীর কাছে না এসে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।
সুনামগঞ্জ ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সদস্য শবনমদোজা জ্যোতি বলেন, নার্স দিবস পালন করার অধিকার তাদের আছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের এই আয়োজন জবাবদিহিতার অভাবেরই একটি উদাহরণ। হাসপাতালের ভেতরে এমন আনন্দ-উল্লাস মানবিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, নার্স দিবসে আনন্দ উপভোগ করা দোষের কিছু নয়। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব আয়োজন করা উচিত ছিল।
