সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে গুলি, প্রভাষকের ২১ বছরের জেল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ডা. রায়হান শরীফ
expand
ডা. রায়হান শরীফ

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করা এবং অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ( ১৭ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ ওই মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিক সরকার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি এবং মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি পেশাগত পবিত্র দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দুটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও চাকু নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিত এগুলো কর্মস্থলে বহন করতেন এবং এর ধারাবাহিকতায় নিরীহ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন।

আদালত আরও জানাযায়, রায়হান শরীফ ছাত্রজীবন থেকেই সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি সমাজ, বাবা-মা কিংবা সহকর্মীদের ওপর চড়াও হতে বা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।

আইনি আদেশে বিচারক রায়হান শরীফকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের একাডেমি ভবনের চতুর্থতলায় ক্লাস চলাকালীন ডা. রায়হান শরীফ তুচ্ছ ঘটনায় শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করে গুরুতর আহত করেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন ও দুটি অত্যাধুনিক ছোরা উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করলেন। সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমাল বলেন, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। তার পরেও আদালত যে রায় প্রদান করেছে সেটা যেন বাস্তবায়ন হয় এটাই আদালতের কাছে আমার চাওয়া।

রায়ের পরে ডা: রায়হান শরিফের বাবা প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি আমার ছেলের জন্য উচ্চ আদালতে যাবো আপিল করার জন্য।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন