

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুরের সখিপুরে স্ত্রী কর্তৃক তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে চরভাগা ইউনিয়নের পশ্চিম মনাই হাওলাদারকান্দি গ্রামে নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত যুবকের নাম আব্দুর রহিম (২২)। তিনি নড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ওই গ্রামের শাজাহান দেওয়ানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর সামিয়া নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন রহিম। শুরুতে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও সময়ের সঙ্গে নানা বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছিল।
সম্পর্কের অবনতির পর সোমবার সামিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রহিমকে তালাকের কাগজ পাঠান। প্রিয় মানুষটির এই সিদ্ধান্ত রহিম মানতে পারেননি। বিষয়টি জানার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরিবারের কারও সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলছিলেন না।
রহিমের বাবা শাজাহান দেওয়ান জানান, ছেলেটা মেয়েটাকে খুব ভালোবাসত। তালাকের কাগজ আসার পর থেকে ও কিছু খায়নি, কারও সঙ্গে কথাও বলেনি। আজ বিকেলে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ পর দরজা না খুললে আমরা জোর করে ঢুকে দেখি ও নিস্তেজ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।
তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
সামিয়া বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আমাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। রহিম অনেক সময় নিজেই তালাকের কথা বলত। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, তাই শেষমেশ আমি ডিভোর্স লেটার পাঠাই। ভাবিনি সে এমন সিদ্ধান্ত নেবে। খবরটি শুনে আমি হতবাক হয়ে গেছি।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহম্মেদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের কারণে আব্দুর রহিম আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তরুণ বয়সে রহিমের এই মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, হাসিখুশি স্বভাবের রহিম এমন সিদ্ধান্ত নেবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তার সহপাঠীরাও কলেজ ক্যাম্পাসে এসে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
মন্তব্য করুন

