

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুন্দরবনে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বিএলসিধারী (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) জেলেদের জীবনযাত্রার সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। তবে জনকল্যাণমূলক এ উদ্যোগের প্রথম দিনেই সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে নাম তৈরি ও চাল বিতরণ ঘিরে উঠেছে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জেলেদের হাতে চাল তুলে দেয়ার মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে উপকূলীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় তালিকাভুক্ত প্রতিটি জেলেকে এককালীন ৮০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।
প্রথমবারের মতো এমন সরকারি অনুদান পেয়ে কিছু জেলে আনন্দ প্রকাশ করলেও অধিকাংশ প্রকৃত বিএলসিধারী জেলে সহায়তাবঞ্চিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, বৈধ বিএলসি ও সরকারপ্রদত্ত জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও শত শত জীবনসংগ্রামী জেলে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে, বাস্তবে কখনো সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান না এমন অনেক অ-জেলে ও প্রভাবশালীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের চাল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ধরনের অনিয়মের বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, তালিকা তৈরিতে ইউপির কোনো ভূমিকা নেই। বন বিভাগের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মৎস্য অধিদপ্তর ৬২৫ জন জেলের একটি চূড়ান্ত তালিকা পরিষদকে দিয়েছে এবং তারা কেবল চাল বিতরণের মাধ্যম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার সত্যতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২,৫৭৪ জন নিবন্ধিত জেলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। প্রথমবার চালু হওয়া এই সহায়তায় কারিগরি বা তথ্যগত ভুলের কারণে কোনো প্রকৃত জেলে বাদ পড়ে থাকলে, তাদেরকে বিএলসি, জেলে কার্ড ও এনআইডি কার্ডের কপি নিয়ে সরাসরি মৎস্য দপ্তরে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এসব আবেদন উপজেলা কমিটির মিটিংয়ে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।


