মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় তিন মাসে ৬৫ আত্মহত্যা ও ১৩৬ অপমৃত্যু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
সাতক্ষীরায় তিন মাসে ৬৫ আত্মহত্যা ও ১৩৬ অপমৃত্যু
expand
সাতক্ষীরায় তিন মাসে ৬৫ আত্মহত্যা ও ১৩৬ অপমৃত্যু

সাতক্ষীরায় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। গত মে থেকে জুলাই এই তিন মাসে জেলায় ৬৮৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩৬ জনের অপমৃত্যু এবং ৬৫টি আত্মহত্যার চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। সীমান্তে সহিংসতা, সুন্দরবনে জেলের ওপর নির্যাতন এবং নারী-শিশু নির্যাতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে বিচারক না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিচারকার্য।

গতকাল ২৩ আগস্ট (শনিবার) বিকেলে সাতক্ষীরার ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সহযোগিতায় ও উত্তরণ-ডিএইচআরএনএস প্রকল্পের আয়োজনে আয়োজিত এক ত্রৈমাসিক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এমএসএফের সেক্রেটারিয়েল সাপোর্ট স্টাফ অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরুদ্দীন।

সাতক্ষীরা জিআরও অফিসের তথ্যমতে, আগের তিন মাসের তুলনায় জেলাজুড়ে অপরাধের প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে। আলোচিত তিন মাসে আটটি থানায় ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি এবং সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধের বিচার চেয়ে শত শত ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার এই অবনতির মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা। এ ছাড়া চোরাচালান, সাইবার নিরাপত্তা, পর্নোগ্রাফি ও অস্ত্র আইনেও একাধিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

একই সময়ে জেলায় প্রাণহানির ঘটনাও ছিল উদ্বেগজনক। তিন মাসে অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন ১৩৬ জন মানুষ, আর মানসিক যন্ত্রণা ও নানা কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৬৫ জন। এর বাইরে আঞ্চলিক সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ১৫টি হত্যাকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিতে ডুবা এবং সুন্দরবনে নানান দুর্ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সীমান্ত ও সুন্দরবনের নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জুন মাসে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনসংলগ্ন নদীগুলোতে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যু ও ডাকাতদের হাতে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত হয়েছেন ৩২ জন জেলে, যা উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি বিচারহীনতার এক বড় সংকট তৈরি হয়েছে জেলা আদালতে। সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন ধরে কোনো বিচারক না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিচারকার্য। ফলে বিচারের আশায় আসা শত শত নারী ও শিশু আইনি অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অচলাবস্থা নিরসন এবং দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে আগামী ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সামনে মানববন্ধন ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এমএসএফের সমন্বয়কারী সোফিয়া হাসিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের মনিটরিং অফিসার সাহিদ মাহফুজ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এইচআরডি নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক মাধব চন্দ্র দত্ত, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন সরকার, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, জার্নালিস্ট এইচআরডি নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বলসহ অন্যান্য বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank