শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে ৪ খুন: জবানবন্দিতে যা বললেন আসামি সিদ্ধার্থ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে কীভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সিদ্ধার্থ দাস বিস্তারিত বিবরণ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে সিদ্ধার্থের দেওয়া জবানবন্দির তথ্য প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সিদ্ধার্থ দাস জানান, গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) ভোরের দিকে তিনি এবং অপর আসামি মুগ্ধ দাস বেশি পরিমাণে ইয়াবা সেবন করেন। রাত ১২টার পর সীমান্তের বাসায় তিনটি ইয়াবা সেবনের পর, রাত ৩টার দিকে কামাল কাছনার ইয়াবা কারবারি শান্তর কাছ থেকে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে আরও চারটি ইয়াবা সংগ্রহ করেন।

পরে রাস্তায় কুকুরের তাড়া এড়াতে দেবুদের বাড়ির প্রাচীর ও ছাদ টপকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতে থাকেন। ওই রাতে তারা মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেছিলেন, যা তাদের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ইয়াবার ঘোরে তারা খেয়ালই করেননি কখন ভোরের আলো ফুটে গেছে।

ভোরে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’ এতে পরিচিতি প্রকাশ ও মান-সম্মানের ভয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তাদের গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে গণপতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ ছাদের এক কোণে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

শব্দ শুনে গণপতির স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদের ওপর চড়াও হয় আসামিরা। মুগ্ধ গামছা দিয়ে গণপতির স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ মেয়েকে এক হাতে গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেই গামছা ও কবুতরের ঘরের বাক্স থেকে আনা রশি দিয়ে মেয়েকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এরপর বাসায় ঢুকে তারা দেখতে পান গণপতির ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। প্রিয়ম সিদ্ধার্থকে দেখে চিনে ফেলে বলে, ‘সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন?’। চিনে ফেলায় তাকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

জবানবন্দিতে সিদ্ধার্থ আরও জানান, হত্যার পর ধরা পড়ার ভয়ে প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে সিসি ক্যামেরা অকেজো করা হয়। হত্যাকে চুরি বা ডাকাতি বলে চালাতে ঘরের ড্রয়ার খুলে আসবাবপত্র এলোমেলো করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করা হয়। পরে গোসল সেরে আরও একটি ইয়াবা সেবন করে দেয়াল টপকে তারা পালিয়ে যান। লুটের টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন সিদ্ধার্থ।

পুলিশ কমিশনার জানান, অপর আসামি মুগ্ধ দাসও একই রকম জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহতদের ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মিললেও ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আসামিদের ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে জবানবন্দির তথ্য তুলে ধরার পর উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করা শুরু করলে পুলিশ কমিশনার কোনো উত্তর না দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন