বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীর চোখে গুরুতর আঘাত, মামলার তিন দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অনন্তপুর আবাসিক এলাকার হোস্টেলে রুম দখলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাহ তাফসীর আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীর বাম চোখে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পরও মামলার অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার চার আসামি জামিনে রয়েছেন এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অনন্তপুর হোস্টেল-১-এর দ্বিতীয় তলার ২০২ নম্বর কক্ষে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২২ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিয়েল সরকার।

মামলায় শরীফ উদ্দিন খান (২২), রজব সানি (২২), আশিষ চন্দ (২২), আব্দুল্লাহ আবু আফফাজ (২১), রায়হান রাজ (২২), সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাট (২১), ফারদীন রহমান ইফতি (২১) ও মো. আকিব মাহমুদ (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার আগে থেকেই অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের দিনও কয়েকজন অভিযুক্ত হোস্টেলের ২০২ নম্বর কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন।

ঘটনার রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই কক্ষে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, শরীফ উদ্দিন খান ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে শাহ তাফসীর আহমেদের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আঘাতটি তার বাম চোখে লাগে। গুরুতর আহত তাফসীর বর্তমানে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার বাদী রিয়েল সরকার দাবি করেন, তাফসীরের বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মতামত ও মেডিকেল নথি ছাড়া দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অপটিক অ্যাট্রোফি হলে অপটিক নার্ভের ক্ষয় বা অবক্ষয়ের কারণে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, রজব সানি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মো. সামীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথায় রক্তাক্ত জখম হয় এবং কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। আশিষ চন্দ রিয়াদ হাসানের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গিয়ে রিয়াদের হাতে গুরুতর জখম হয়।

এ ছাড়া আব্দুল্লাহ আবু আফফাজের বিরুদ্ধে রিয়াদ হাসানের মাথায় আঘাতের চেষ্টা, রায়হান রাজের বিরুদ্ধে লোহার রড দিয়ে হামলা এবং সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাট, ফারদীন রহমান ইফতি ও আকিব মাহমুদের বিরুদ্ধে হকিস্টিক দিয়ে তাফসীরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও হোস্টেলের নিচের গেট তালাবদ্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

মামলার নথি অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে শাহ তাফসীর আহমেদ, মো. সামী, মো. রিয়াদ হাসান ও সামিউল আল আলিফসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের কেউ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে, কেউ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শাহ তাফসীর ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, 'আমার জানা মতে চারজন আসামি জামিনে আছেন। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'

মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীর চোখের বর্তমান অবস্থা এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা চিকিৎসকদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও মেডিকেল নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন