

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুরে আলোচিত ৪জনকে হত্যার ঘটনায় মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের চারজনকে মাত্র দুজনের পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। তার ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বড় কোনো শক্তি থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাছুয়া পাড়ার ওই বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আগে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘সন্দেহটা ওই জায়গায় যে দুইটা লোকের পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড করা সম্ভব নয়। চারটে দুইটা লোকে চারটে লোক মারবে এবং মারিয়ে তারা সুস্থভাবে থাকি ঘুমাবে, বাড়িতে বসি থাকবে। এটা কখনোই সম্ভব নয়।’
হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত উল্লেখ করে গোপীনাথ বলেন, ‘একটা মানুষ খুন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এর পিছনে কোনো বড় শক্তি আছে অলক্ষ্যে, আড়ালে।’
তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লোকজন তো বলছে- বিদ্যুৎ আগে বন্ধ করে দিয়েছে। এখন কী যে হবে, যেটা হবে সেটা তো মেনে নিতে হবে। আমরা তো তদন্ত করার কেউ না। প্রশাসন একটার পর একটা যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তো করার কী আছে?’
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে সন্দেহ রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে গোপীনাথ বলেন, ‘না সেটা আমার নাই। কারণ আমি তো কাউকে চিনি না। আমি তো দূরে থাকি। সংঘর্ষ বা কোনো ক্যাচালের কথাও শুনিনি। খুব ভালো মানুষ ছিল। মানুষ এত ভালো হয় না।’
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির উঠানে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় গীতা পাঠ করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশে বসে কাঁদতে দেখা যায়।
এদিকে নিহতদের স্মরণে রংপুর জিলা স্কুলে প্রার্থনা ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন।
স্মরণসভায় নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রিয়ম চক্রবর্তী এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, গণপতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার কাছেই অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ছিলেন। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হোক। জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা দ্রুত বিচার চাই এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।


