শুক্রবার
১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা'কে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ, ২৬ বছর পর উদ্ধার 

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ২৬ বছর পরে আদালতের মাধ্যমে পৈত্রিক জমি ফিরে পেয়েছেন মিজানুর রহমান নামে এক ইতিম।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় গ্রামবাসী জমি পরিমাপ করে তাকে দখল বুঝে দিয়েছেন।

ইতিম মিজানুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও গ্রামবাসী জানান, জন্মের তিন বছর পরে মারা যান মিজানুর রহমানের বাবা শাহজাহান আলী। বাবার মৃত্যুর পরে তাকে নিয়ে পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করে তার মা নয়নী বেগম। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি চাষাবাদ করে তাদের সংসার চলছিল। ইতিম শিশু মিজানুরের জমির উপর চোখ পড়ে তারই চাচা শহিদুল ইসলামের। চাচা শহিদুল ইসলাম মিজানুরের মা নয়নী বেগমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইতিম মিজানুরের অভিভাবক হিসেবে সেই ৫৬ শতাংশ জমি শহিদুল ইসলামকে রেজিস্ট্রি করে দেন নয়নী বেগম। কিন্তু ইতিমের জমি বিক্রির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হলেও তারা তা করেননি।

তবে জমিগুলো ভোগদখলে নিলেও শেষ পর্যন্ত চাচা শহিদুল ইসলাম মিজানুরের দায়িত্ব বা তার মা নয়নী বেগমকে বিয়ে করেননি। দেবরের প্রতারনার শিকার হয়ে নয়নী বেগমও মিজানুরকে তার দাদির কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেন।

এরপর থেকে শিশু মিজানুরের ঠাঁই হয় দাদির কাছে। বিধবা দাদি পরম যত্নে ইতিম শিশু মিজানুরকে পড়ালেখা করান। মিজানুর ইতোমধ্যে সম্মান শ্রেণি পাশ করে বিয়ে করেছেন। একই সাথে দাদির পরামর্শে বাবার জমি উদ্ধারে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা দীর্ঘ দিন চলার পরে গত ১০ আগস্ট আদালত মিজানুরের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন।

রায় ঘোষনার পরে পুরো গ্রামে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ইতিম মিজানুরের পক্ষেই ছিল পুরো গ্রামবাসী। রায় ঘোষনার পরে শুক্রবার থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে ওই জমি পরিমাপ করে ইতিম মিজানুরকে বুঝে দেন।

ইতিম সিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে প্রায় ২৬ বছর পরে পৈত্রিক জমি ফিরে পেয়েছি। আদালত ইতিমের প্রতি ন্যায় বিচার করেছেন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি চাষাবাদ করে এখন আমার সংসার চলবে। মায়ের মত যত্ন নেয়া দাদির পরামর্শে আমি আমার সম্পদ ফিরে পেয়েছি।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং গ্রামবাসীর ডাকে পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল। দুই পক্ষকে নিয়ে গ্রামবাসী আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে দিয়েছেন। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দীর্ঘ ২৬ বছরের বিবাদের সমাধান হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank