

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’ -এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী। নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে, আর বৈশাখী শোভাযাত্রাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তৈরি হচ্ছে নানা বর্ণিল মোটিফ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি উঠে আসছে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এবারের শোভাযাত্রায় যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
চারুকলা অনুষদের শিক্ষক এ কে এম আরিফুল ইসলাম জানান, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতীকী উপস্থাপনায় এমন মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে, যা মানুষকে আবার পুরনো বাহনের দিকে ফিরে যাওয়ার বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এ কারণে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়িকে প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে।
শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির মোটিফ। পাশাপাশি জাতীয় মাছ ইলিশ, টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশও স্থান পাচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বিশেষ ইনস্টলেশন আর্ট প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন একাডেমিক ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বাঁশ, লোহা ও কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন এসব মোটিফ। রঙতুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে প্রাণ পাচ্ছে প্রতিটি শিল্পকর্ম।
মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির বলেন, গত বছর রমজানের কারণে বড় পরিসরে আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এবার নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তারা। শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের কথাও জানান তিনি।
অর্থায়ন প্রসঙ্গে চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শ্রম ও অর্থায়নেই প্রস্তুতি চলছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর নেওয়া হয়নি।
এদিকে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবারও ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই আয়োজন করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলেও বইছে উৎসবের হাওয়া। পবা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী সুশান্ত কুমার পাল। তার ঐতিহ্যবাহী ‘শখের হাঁড়ি’ এবারও বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠছে।
পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মাটির হাঁড়ি, হাতি, ঘোড়া, হরিণ, পুতুলসহ নানা পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কোনোটি কাদামাটিতে, কোনোটি রোদে শুকানো, আবার কোনোটি রঙের কাজ চলছে।
কারিগর মৃত্যুঞ্জয় কুমার পাল জানান, বৈশাখ এলেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা যোগাযোগ করেন। এতে কাজের চাপ বেড়ে যায়। তবে বৈশাখ শেষে চাহিদা কমে যায়।
কারিগর আনন্দ কুমার পাল বলেন, আগে অনেক পরিবার এ পেশায় যুক্ত থাকলেও এখন কারিগরের সংখ্যা কমছে। তবুও শৌখিন মানুষের কাছে শখের হাঁড়ির চাহিদা এখনও রয়েছে।
আয়োজকদের আশা, রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শোভাযাত্রা ও বৈশাখী আয়োজন উপভোগ করতে আসবেন। তাদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব গ্রামাঞ্চলে আরও বিস্তৃত হলে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়বে এবং মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন