মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামির বদলে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, ২০ দিন পর জামিন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
expand

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে নাম ও পরিচয়ে মিল থাকায় প্রকৃত আসামির বদলে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. জলিল হাওলাদার (৪৭)। আজ মঙ্গলবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বাদশা বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। কিন্তু নাম ও পরিচয়ে মিল থাকায় পুলিশ ভুলবশত তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। আজ আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনের পর জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মহিপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন। একই দিন কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর প্রায় ২০ দিন পটুয়াখালী জেলা কারাগারে থাকার পর আজ তিনি জামিনে মুক্তি পান।

গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের মেয়ে জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, বাবাকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে পরোয়ানা যাচাইয়ের অনুরোধ জানান এবং বাবার নামে কোনো মামলা নেই বলে জানান। কিন্তু স্থানীয় লোকজন ও তাঁর আপত্তি উপেক্ষা করে পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁর বাবাকে আদালতে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে এবং পেশায় জেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বয়স ৪৭ বছর।

অন্যদিকে মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাড়িও একই এলাকায় এবং তিনিও আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর মায়ের নাম মাজেদা বেগম ও বয়স ৩৫ বছর। দুজনের পরিচয়ের মধ্যে কেবল মায়ের নাম ও পরিচয়পত্র নম্বরে পার্থক্য।

প্রকৃত আসামির বড় ভাই হানিফ হাওলাদার জানান, তাঁর ভাই তিন বছর ধরে প্রবাসে আছেন। বাবা আবদুল মালেক হাওলাদার বলেন, ছোট ছেলে ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরেননি। তাঁর ছেলের পরিবর্তে অন্য একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি থানা-পুলিশের কাছ থেকেই জেনেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন, যেখানে শিববাড়িয়া এলাকার জলিল হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করা হয় এবং ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং একই বছরের ৮ মে সম্পদ জব্দের আদেশ জারি হয়। আজ বিচারক মো. আবু বকর আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মামলার বছরই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, পরে জানতে পারেন আসামি দেশের বাইরে চলে গেছেন। কিছুদিন আগে মহিপুর থানার ওসি তাঁকে ফোন করে আসামি গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে তাঁর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার আসামির নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির মায়ের নাম ও সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকলে এই ভুলের সুযোগ থাকত না। ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর জামিন পাওয়ার বিষয়ে আইনজীবী নিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank