

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি।
খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই জমির একাংশ দখল করে রাতের আঁধারে রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাফি দাবি করেছেন, তিনি বৈধ মালিকদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমেই জমি কিনেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের কেনা জমিতে যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয়ের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। এতে বাধা দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফি কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত এই ব্যক্তির রাজনীতিতে যোগদান তখনও ছিল আলোচনার বিষয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে কেনা জমিসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট জমির পরিমাণ ৪০ একর ৬৪ শতাংশ। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর ৯–এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা আছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রবেশপথে সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে সম্প্রতি রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে অভিযোগের জবাবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কলাপাড়া সিক্স লেন মহাসড়ক সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট জমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, সিক্স লেন সড়কের পাশে ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে ওই জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের কাছে রাস্তার জন্য কিছু জায়গা চেয়ে অনুরোধ করেন। প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের এখতিয়ার তার নেই।
পরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলা মামলায় দাবিকৃত মালিক পক্ষ ৩টি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করে দখল বুঝে নিয়ে সেখানে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করেন।
আমি কারও জমি দখল করিনি। প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি বায়না করে রাস্তা করেছি। রাস্তা নির্মাণের পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন, যাতে আমার এবং আমার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। এ নিয়ে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি বিদ্যালয়ের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে। বিদ্যালয়ের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।