

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই বিরোধের কারণে ক্যাম্পাসজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পবিপ্রবির ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভা এবং একই সময়ে হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির বাছাই বোর্ডকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান অভিযোগ করে বলেন, রিজেন্ট বোর্ডে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি, সেগুলোকেও বোর্ডের সিদ্ধান্ত দেখিয়ে অফিস আদেশ জারি করে কার্যকর করেছেন উপাচার্য।
তাঁর দাবি, ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২১ জনের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়ন বিধিবহির্ভূতভাবে স্থগিত রেখে মাত্র তিনজনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
উপ-উপাচার্যের আরও অভিযোগ, বাছাই বোর্ডের সুপারিশের পর উপাচার্য নতুন করে আরেকটি কমিটি গঠন করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালার পরিপন্থী।
ওই কমিটি পুনরায় আবেদন ও ব্যক্তিগত নথি যাচাই করে ২৪ জনের পরিবর্তে মাত্র তিনজনকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে।
এ ছাড়া রিজেন্ট বোর্ড সভায় শিক্ষক ড. এবিএম সাইফুল ইসলামের পদোন্নতি এবং অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ আটকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যপন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। এর জেরে বিজয় দিবস উপলক্ষে তাঁরা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করেন।
পরবর্তীতে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে রেজিস্ট্রারকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। এর কিছুদিন পর রেজিস্ট্রার পদত্যাগ করেন। পরে গত ১ জানুয়ারি নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেন উপাচার্য।
তবে নিয়োগের চার দিনের মাথায় কৃষি অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রশাসন ও একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়।
এদিকে উপ-উপাচার্যপন্থীরা তাঁদের অভিযোগ ও দাবির সুরাহা না হলে উপাচার্যের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও বলেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সিএস অনুসারে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।
কিন্তু এর দুই দিনের মধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল ক্যাম্পাসে আসে। তারা পদোন্নতির জন্য আবেদন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল নিয়োগের সময়কার অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নথিপত্র সংগ্রহ করে।
উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে বিষয়টি তদন্তে একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তদন্ত করে ১১০ জন কর্মচারীর মধ্যে ৭ জন এবং ৩৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩১ জনের নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পায়। এ কারণেই তাঁদের পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে।
শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলামের পদোন্নতি প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য ন্যূনতম চার বছর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। কিন্তু এবিএম সাইফুলের অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র চার মাস, ফলে তাঁকে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়।
অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রীর নিয়োগ প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। তাঁকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ড নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিধিবহির্ভূত সুবিধা না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে তিনি নিয়ম ও আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
মন্তব্য করুন
