মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়া প্রেমিকের যোগসাজশে স্বামীকে হত্যা, নির্বাক দুই সন্তান 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
পরকিয়া প্রেমিকের যোগসাজশে স্বামীকে হত্যা
expand

বাড়ির উঠোনে নির্বাক হয়ে বাবা মায়ের ছবি দেখছে ছোট্ট দুই ভাই বোন। পৃথিবীর হিসেব নিকেশ বুঝে উঠার আগেই জীবনের গতিপথ উলোট পালোট হয়ে গেছে তাদের। পরকিয়া প্রেমিকের যোগসাজশে তার বাবা আলম হক (৩০) পানির সাথে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যা করেছে মা মৌসুমী আক্তার (২৫)।

মাকে আটক করে স্থানীয়রা সোমবার বিকেলে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। জীবন সংসারে এখন রাফিয়া মনি (৭) ও তার ভাই জুনায়েদ (৫)। ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকার। আলম ওই এলাকার তসলিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাতে খাবার সময় দুটি সাদা বড়ি পানির সাথে মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান মৌসুমী। তার কিছুক্ষণ পরে বমিসহ অসুস্থ হয়ে পড়লে মধ্যরাতে তাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুরে নেয়ার পথে আলমের মৃত্যু হয়।

সোমবার স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের সামনে মৌসুমী নিজেই এই তথ্য জানান। একই সাথে তিনি দাবি করেন একই এলাকার বাবুল হোসেন তাকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিতো। মেয়েকে গুমের হুমকি দিয়ে তার স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে বড়ি দুটি সেই তুলে দেয় মৌসুমীকে।

মৌসুমী বলেন, বাবুলের সাথে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার মেয়েকে গুম করার হুমকি দেয় সে। এরপর আমার হাতে দুটি সাদা ঘুমের বড়ি তুলে দেয়। ওই বড়ি খাওয়ালে আমার স্বামী ঘুমিয়ে পড়বে আর ওই সুযোগে সে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করবে। আমি সন্তানকে বাঁচাতে স্বামীকে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে বাধ্য হই। কিছুক্ষণ পর তিনি বমি করেন। আমি জানতাম না এটি খাওয়ালে তিনি মারা যাবেন।

আলমের ভাই জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাই খাওয়ার সময় তেতো অনুভব করেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি বমি শুরু করেন। তখনই আমাদের ধারণা হয় তাকে কিছু খাওয়ানো হয়েছে। আমার ভাবী তারপরও স্বীকার করেনি। আজ যখন সবাই তাকে জিজ্ঞেস করেছে তখন সে সত্যটা প্রকাশ করেছে। আমরা এ ঘটনায় ন্যায় বিচার চাই। প্রতিবেশী মায়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে কথা বলা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ছিলো। তাই বলে স্ত্রী স্বামীকে এভাবে ওষুধ খাইয়ে হত্যা করবে এটা কল্পনা করা যায় না। দুটি সন্তানের এখন কি হবে। নিরিহ একটি ছেলেকে যারা এভাবে হত্যা করলো আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এখন অন্য স্বামীরাও তার স্ত্রীকে বিশ্বাস করবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, বাবুল এলাকায় দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ হিসেবে পরিচিত। এর আগেও সে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি করেছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো পর। আজ তার স্ত্রীকে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। সেই সাথে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank