বুধবার
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ঘন কুয়াশা
expand
ঘন কুয়াশা

হিমালয়ের একেবারে নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হঠাৎ করে তাপমাত্রার এ ধরনের বড় ওঠানামায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল ও সন্ধ্যার পর কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দিনমজুর, চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ শীতের কারণে নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না। এতে তাদের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে। অনেক পরিবারকে ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিশেষ করে ছিন্নমূল ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের জন্য শীতের রাতগুলো হয়ে উঠেছে চরম কষ্টকর। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত না হলে শীতজনিত দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে তীব্র শীত ও একটানা কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। প্রতিনিয়তই সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, তেঁতুলিয়ায় হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার কারণে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। আজকের তাপমাত্রা অনুযায়ী তেঁতুলিয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X