

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ও খ্যাতনামা লোকসংগীতশিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। সোমবার (গতকাল) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তবলাশিল্পী পল্লব স্যানাল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মলয় কুমার গাঙ্গুলী দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাঁর মরদেহ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়।
তাঁর একমাত্র কন্যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর শেষকৃত্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ও সুরে ‘ওরে ও বাঙালি আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ গানটিতে একক কণ্ঠ দেন তিনি, যা মুক্তিযুদ্ধকালীন অনুপ্রেরণামূলক গানের অন্যতম হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রের গানেও তাঁর কণ্ঠ ছিল সমান জনপ্রিয়।
‘পুত্রবধূ’ সিনেমার ‘গুরু উপায় বলো না’ গানটি শ্রোতামহলে বিশেষ সাড়া ফেলেছিল, যেখানে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র। এ ছাড়া ‘আমার মন তো বসে না’সহ একাধিক চলচ্চিত্রের গানে তাঁর কণ্ঠ পাওয়া গেছে।
আলোচিত দেশাত্মবোধক গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’-এর সুরকারও ছিলেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। গানটি তিনি নিজে গেয়েছেন, পরবর্তীতে হাসান মতিউর রহমানের লেখা এই গানটি কণ্ঠে তুলেছিলেন সাবিনা ইয়াসমীনও।
একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান ও সংগীতে রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন

