

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালীর হাতিয়ায় তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর অজ্ঞান হয়ে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া আরও ১২ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তার (১৫)সহ ১২ জন রয়েছেন। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের অনেকের এখনো জ্ঞান ফেরেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীম উদ্দিন জানান, প্রথমে যারা অজ্ঞান হয়েছিল, তাদের বাড়িতে পাঠানোর পর জ্ঞান ফিরে আসে। কিন্তু পরে যারা অজ্ঞান হয়েছে, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরও অনেকের জ্ঞান ফেরেনি। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, “অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না, তা ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর বলা যাবে। অনেকের এখনো জ্ঞান ফেরেনি। আমরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো কোনো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন।
এ সময় হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে শ্রেণিকক্ষে ছড়িয়ে পড়া ঝাঁজালো গন্ধের উৎস কী এবং এর কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


