

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ কার্যালয়ে গভীর রাতে প্রবেশ করে ব্যানার টাঙানোর চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জেলা শহরের মাইজদী টাউন হল মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ওই ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। বুধবার ভোররাতে একদল ব্যক্তি আকস্মিকভাবে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়’ লেখা একটি নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দিয়ে দলীয় স্লোগান দিতে থাকেন।
ব্যানার টাঙানোর একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যানারটি জব্দ করে এবং জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাসপুর এলাকার আব্দুর রহিম নাজিমের ছেলে মোঃ সফিকুল ইসলাম নাজিম (৪৩), সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজদী এলাকার মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ কাউছার হামিদ (৩৮), কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের মোঃ হেদায়েত উল্লাহর ছেলে মোঃ জিয়াউল রহমান রাজু (৪৮), ১নং চরমটুয়া ইউনিয়নের রামান্দি গ্রামের হানদু মিয়ার ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (৫৫) এবং হরিনারায়নপুর এলাকার মৃত নরছন্দ পালের ছেলে বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল (৪৯)।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, "ভোররাতে একদল লোক অবৈধভাবে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যানার টাঙানোর চেষ্টা চালায়। খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন