বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনায় দেওয়া হলো ‘ত্রাণের প্যাকেট’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে ত্রাণের প্যাকেট। সম্মাননা অনুষ্ঠানে স্বারক বা ক্রেস্টের বদলে সাধারণ ত্রাণের প্যাকেট দেওয়ায় আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে এসব প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম এবং এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সকালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত সবার মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মানবিক সহায়তার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। ব্যাগের ভেতর ছিল চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, সেমাই, লবণ ও গুঁড়া মরিচ। বিষয়টি বুঝতে পারার পর উপস্থিত গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আহত জুলাই যোদ্ধা শাকিল চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই যোদ্ধারা দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পুনর্বাসন দেওয়া প্রত্যাশিত। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ত্রাণের প্যাকেট দেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

আরেক আহত যোদ্ধা লিয়াকত হোসেন আশিক বলেন, দেওয়ার সময় ব্যাগে লেখা ছিল ‘জেলা প্রশাসনের উপহার’। বাসায় এসে দেখি ভেতরে ত্রাণসামগ্রী, যা মূলত গরিব-দুস্থ মানুষের পাওয়ার কথা। আমাদের কিছু দেওয়ার না থাকলে না দিলেও হতো, একটি ক্রেস্ট বা সম্মাননা স্মারক দিলেই আমরা খুশি হতাম।

একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অন্য এক জুলাই যোদ্ধা বলেন, এই ত্রাণ দুস্থদের হক ছিল, তা নষ্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধি শ্রেষ্ঠ সরকার জানান, ব্যাগে একটি মগের পাশাপাশি ত্রাণের সামগ্রী ছিল, যা তারা পরে বাসায় গিয়ে টের পান।

এ বিষয়ে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, সংবর্ধনা দেওয়া বা উপহার কেনার জন্য আলাদা কোনো বাজেট ছিল না। বাজেট না থাকায় এবং অন্যান্য জেলাতেও একইভাবে করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন