

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি গুলি শরীরে নিয়েই টানা ৫৫ বছর কাটিয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা মন্নাস আলী (৭৫)। অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে সেই গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।
শনিবার (০৪ জুলাই) দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল প্রায় আধা ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে সফলভাবে গুলিটি বের করেন।
মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করলে এর প্রতিশোধ নিতে আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। হামলার সময় অর্ধশতাধিক মানুষকে ঘরের ভেতরে আটকে আগুন দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া একটি গুলি মন্নাস আলীর পেটে বিদ্ধ হয়। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তিনি চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে শরীরে গুলি নিয়েই দীর্ঘ ৫৫ বছর পার করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করতে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় আজ তার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’
মন্নাস আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, ‘আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে। আজ অস্ত্রোপচারের পর আমরা নিজের চোখে সেই গুলি দেখলাম।’
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানান, স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার (০৩ জুলাই) মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার অস্ত্রোপচার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও তিন-চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।’

