সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব: ৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৬০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল
expand
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত তিন মাসে জেলায় এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত চার শিশুর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে একজন করে এবং চলতি মার্চ মাসেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুরা হলো— চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মারিয়া ও সাইফা, নাচোল উপজেলার তনিমা এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ইমাম মাহমুদ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। তিনি বলেন:

"টিকাদানে অনীহার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা (MR) টিকার দুটি ডোজ নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।"

অন্যদিকে, জেলার সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে হাম প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে তা সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই নতুন ক্যাম্পেইন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালে আসা অভিভাবকদের অভিযোগ, ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর মনে করে শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা হাসপাতালে ছুটছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের শরীরে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্তদের শনাক্ত করছেন এবং যারা টিকা নেয়নি তাদের তালিকা তৈরি করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন