শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটের মাঠে নেমেই বিতর্কে জড়ালেন হারুনপুত্র রাফি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের পুত্র রুবাইত ইবনে হারুন রাফি
expand
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের পুত্র রুবাইত ইবনে হারুন রাফি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের পাশে নেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

ফলে শুরুর দিকে একা হয়ে পড়েন বিএনপির এই প্রার্থী। তাই তার নির্বাচনে মাঠে সঙ্গ দিতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেন তারই একমাত্র পুত্র রুবাইত ইবনে হারুন রাফি।

কিন্ত নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পরমুহূর্তেই একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের ছেলে রুবাইত ইবনে হারুন রাফি।

তার বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর জামায়াতের ১১ নং ওয়ার্ড সভাপতি আজিজুল ইসলাম নুরকে প্রকাশ্যে শারীরিক লাঞ্ছনা এবং বিভিন্ন নির্বাচনী পথসভা ও সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচনী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটি এলাকায় নির্বাচনী মিছিল চলাকালীন ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আজিজুল ইসলাম নূরের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে রাফির বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলের কারণে পথ রোধ হওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাফি ওই জামায়াত নেতার গলা টিপে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস ও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নেতার ওপর হামলায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী জনসভায় আল-কায়েদা, আইসিস ও হামাসকে জড়িয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে গেছে তার বিরুদ্ধে। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী তদন্ত কমিটি তাকে শোকজ করেছে।

আজ ২৯ জানুয়ারি তাকে কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে এসব ঘটনার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে নির্বাচনী মাঠের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এক ফেসবুক পোস্টে আবু সালেহ নামে এক ক্ষুদে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিখেন, “রাফি মামা, আপনি শিক্ষিত ছেলে বটে কিন্তু আপনার বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না। আপনার বক্তব্যে অহংকারী মনোভাব বোঝা যাচ্ছে।

আপনি প্রত্যেক সভায় বলুন -" আমি রাফি। আমার বাবা হারুনুর রশীদ। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে আপনারা অতীতে আমার বাবাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আমার বাবা অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

জীবনের অধিকাংশ সময় রাজনীতিতে। তিনি আপনাদের সেবা করতেন চান। আমার বাবা আগামীতে আপনাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য অনেক পরিকল্পনা করেছেন। আপনারা আমার বাবাকে বিজয়ী করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

এর বাহিরে অপ্রয়োজনীয় ও আক্রমনাত্মক মন্তব্য প্রদান হতে বিরত থাকুন। আপনি যেভাবে কথা বলছেন সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ বিশ্বাসের মেয়েও এভাবে বলেন নি।

আমি নিজে দেখেছি এবং শুনেছি সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ বিশ্বাসের মেয়ে Noreen Wadud মার্জিত ও ভদ্রভাবে বাবার জন্য ভোট চেয়েছেন। বর্তমান নূরুল ইসলাম বুলবুল সাহেবের ছেলে-মেয়েরাও বিনয়ী মনোভাব নিয়ে সমর্থন চাচ্ছেন। আশা করি অনুরোধ গুলো ভেবে দেখবেন।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সুজনের সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

তবে উভয় দলের প্রার্থীরা তাদের পথ সভা বা সমাবেশে জনগনের জন্য কী করবে সেগুলো তুলে না ধরে বরং একে অপরের দিকে কথার কাঁদাছুড়াছুড়ি চলছে যা মোটেই কাম্য নয়।

তাই উভয় পক্ষকে ধৈর্য অবলম্বন করে সর্তকর্তার সহিত কথা বলার জন্য অনুরোধ করছি এবং জনগণের জন্য আগামীতে কী করবেন তা বেশি বেশি করে তুলে ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া প্রশাসনের আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শীতলতা লক্ষ্য করছি। নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রশাসনকে শক্ত হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X