

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকার অন্তত ১০টি পয়েন্টে এই আধুনিক এআই-ভিত্তিক পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এসব এআই ক্যামেরা রাজনৈতিক ব্যক্তি, আমলা অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় কিছুই তোয়াক্কা করে না। ফলে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন মানার একটি ইতিবাচক ও দৃশ্যমান প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ধীরে ধীরে রাজধানীর সব সিগন্যাল পয়েন্টে বসানো হবে এই ক্যামেরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে সব সরকারকেই হিমশিম খেতে হয়েছে। নানা ফর্মুলা প্রয়োগ করেও সফলতা মেলেনি। তবে নয়া সরকার ট্রাফিকে শৃঙ্খলা মানাতে নিয়েছেন নয়া ব্যবস্থাপনা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিগন্যাল অমান্য, জেব্রা ক্রসিং না মানা, উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ অন্তত ছয় ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম এই ক্যামেরা। কোনো যানবাহন আইন ভাঙলেই সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে মামলার নোটিশ চলে যাচ্ছে।
জানা গেছে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে দুটি পয়েন্ট, সোনারগাঁও এর সামনে ৩ টি পয়েন্টে, বাংলা মোটরের দুটি পয়েন্টে, বিজয় সরণির ১টি পয়েন্টে, জাহাঙ্গীর গেটের ২টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই ক্যামেরা স্থাপনের ড্রাইভারদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরলেও পুলিশ বিপাকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে।
পুলিশের দাবি, এআই ক্যামেরা চালুর পর অনেক চালক আগের তুলনায় বেশি সচেতন হয়েছেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এখন আর ট্রাফিক পুলিশকে হাত তুলে সংকেত দিতে হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, এসব যানবাহনের চালকদের মধ্যে এখনো আইন মানার প্রবণতা খুব কম। অনেকেই সিগন্যাল বা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলাচল করছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, তো এআই বেসড ক্যামেরা দিয়ে যে সুবিধাটা হচ্ছে যে আগে যখন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ট্রাফিকের লোকজন যখন একটা গাড়িকে সিগন্যাল দিতো তখন মানতে চাইতো না। অনেক সময় গাড়িটাকে আটকানোর পরে দেখা যেতো যে ওই গাড়ির মালিক হয়তো সিনিয়র কোনো কর্মকর্তা। কিন্তু মেশিন তো পুরো ইমপার্শিয়াল। সে মামাকেও চেনে না, খালাকেও চেনে না, মন্ত্রী-মিনিস্টার কাউকেও চেনে না। সে চেনে অপরাধটা।
