

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ২ মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই চাচি ফারজানা আক্তার লতা বেগমকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১ নরসিংদীর ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, র্যাব-১১ সিপিএসসি নরসিংদী আসামি ফারজানা আক্তারকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছিল। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত হয়। এর ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন একটি জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ। র্যাব এ ধরনের অপরাধর বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে আসছে। গ্রেপ্তার ফারজানা আক্তারকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানা-পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
সম্প্রতি দুই মাসের এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, ঘটনাটি নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামের। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই রাতে জেলা প্রবেশন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন।
মামলার তিন আসামি হলেন ফারজানা আক্তার (৩২), তার স্বামী কাউছার আহম্মেদ (৩৩) ও বাবা আলমাছ মিয়া (৬০)। কাউছার আর আলমাছ ওই রাতেই গ্রেপ্তার হলেও প্রধান অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার আত্মগোপনে ছিলেন।
শিশুটি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার পাইকারদী এলাকার জহিরুল হক ও সায়েবা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার জহিরুল হকের বড় ভাই কাওছার হকের স্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে খাটে শুইয়ে রেখে মা সায়েবা বেগম বাইরে যান। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির চাচি ফারজানা আক্তার ঘরে ঢুকে তার একটি পায়ে মোচড় দেন। এতে শিশুটি জোরে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। পরে ঘর থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যান ফারজানা আক্তার।