

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের সদস্যরা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টায় সালেহনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
নিহত বুলবুল আহমেদ (৩৫) পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।
বন্দরের এ অংশটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় 'কিশোর গ্যাং লিডার' শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।
এর আগেও সিফাত বাহিনী তার উপর হামলা চেষ্টা করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর কোনো কাজে পাশের সালেহনগর এলাকায় গেলে সেখানে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে বুলবুলকে জখম করে তারা।”
আহত বুলবুলকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান মাছুম বিল্লাহ।
মাছুম বিল্লাহ আরও বলেন, এর আগে ওই মামলার জেরে বুলবুলকে একবার হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর সালেহনগর এলাকায় গেলে সিফাতের গ্রুপের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শেখ সিফাত ওরফে 'কাটা সিফাত' শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহীনের ছেলে। শাহীনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
সিফাত স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বন্দরের যুবলীগ নেতা খান মাসুদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। খান মাসুদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসা ও অপরাধী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যার বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পলাতক রয়েছে।
খান মাসুদ পলাতক থাকলেও শেখ সিফাত গত কয়েক মাসে প্রকাশ্যে এসে আবার অপরাধী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সিফাত বাহিনী'র বিরুদ্ধে একাধিক হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাছুম বিল্লাহ বলেন, “সিফাত বাহিনী আগে খান মাসুদের হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতো। গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে গেলেও আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়েছে। আমরা এ বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
তবে, এ বিষয়ে শেখ সিফাতের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনের নম্বরে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের এক সদস্যের নম্বরে কল করলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকান্ডটি ঘটেছে বলে জেনেছি। কিশোর গ্যাং-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন নিহতের পরিবার। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


