শুক্রবার
২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া সেই খতিবকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ এএম
বাইতুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত
expand
বাইতুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমিনের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার সাজা বহাল রেখেছেন আদালত। পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে নিজের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর করা মামলায় সাজা বহাল রাখার পাশাপাশি তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) গোপালগঞ্জ জেলার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান মুফতি রুহুল আমিনের করা আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

একই মামলায় বাদীপক্ষের করা সাজা বৃদ্ধির আবেদনও খারিজ করে দেন আদালত।

মামলার বাদী ফাতেমা বেগম হলেন মুফতি রুহুল আমিনের বড় ভাই ‘বড় পীর’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত হাফেজ মাওলানা ওমর আহমদের স্ত্রী।

তিনি ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়া থানা আমলী আদালত, গোপালগঞ্জে নালিশি আবেদন করে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ আনেন।

মামলার নথিতে বাদীপক্ষের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া থানার ২৩ নম্বর শ্রীরামকান্দি মৌজার ২৮৬২ নম্বর খতিয়ানের বিআরএস ৪৯৭৯ নম্বর দাগে মোট ৩৪ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে ফাতেমা বেগমের স্বামী মরহুম মাওলানা ওমর আহমদের অংশ ১৭ শতাংশ এবং মুফতি রুহুল আমিনের অংশও ১৭ শতাংশ।

বাদীর অভিযোগ, নিজের অংশ ১৭ শতাংশ হওয়ার পরও মুফতি রুহুল আমিন পুরো ৩৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক নিজের দখলে নেন। পরে ওই জমিতে ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এতে বাধা দেওয়া হলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং ফাতেমা বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আলী তালহা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে রায় দেন।

রায়ে তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদেশ দেন আদালত।

তবে নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মুফতি রুহুল আমিন। অন্যদিকে বাদী ফাতেমা বেগমও আসামির সাজা আরও বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে আপিল করেন।

দুই পক্ষের আপিলের শুনানি শেষে বুধবার গোপালগঞ্জ জেলার পারিবারিক আপিল আদালত উভয় আপিলই খারিজ করে দেন। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার সাজাই বহাল থাকল। একই সঙ্গে রুহুল আমিনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank