

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা ওড়িয়ে আলোচনায় আসা সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. আজিজুর শেখ এবার সেই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান। তার ভাষায়, পতাকাটি শুধু একটি জাতীয় পতাকা নয়, বরং আন্দোলনের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর শেখ সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
আজিজুর শেখের দাবি, জুলাই আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় তার মাথা, বুক, পিঠ, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের আঘাত লাগে। তিনি জানান, ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান।
তবে আন্দোলনের পর ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকায় নিজের নাম না থাকা বা আলোচনায় না আসা নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানান তিনি। তার মতে, আন্দোলনে অংশ নেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে ঢাকার রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাচ্ছেন আজিজুর। তিনি বলেন, সৎভাবে উপার্জন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়াই তার কাছে গর্বের বিষয়।
আজিজুর বলেন, ‘সিএনজি চালানোর কারণে অনেকেই প্রশ্ন করেন, সমালোচনাও করেন। কিন্তু আমি সেসবকে গুরুত্ব দিই না। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। তাই চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজের আয়ের পথ নিজেই বেছে নিয়েছি।’
তিনি জানান, এর আগে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় ফুটপাতে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় চাঁদাবাজদের কারণে সেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।
আজিজুর বলেন, পড়াশোনা ও জীবিকার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলেই তিনি এগিয়ে যেতে চান। পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।