

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর আবারও ঢাকঢোল, কাঁশি আর মাঝিদের হেইও হেইও রবে মুখরিত হয়ে উঠল মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ইছামতি নদী। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। উৎসবমুখর এ আয়োজনে যেন ফিরে আসে চিরচেনা বাংলার সেই অতীতের নৌকাবাইচের চিত্র।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাল্লা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে ইছামতি নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার মোট সাতটি ঘাসি ও খেল্লা নৌকা অংশ নেয়।
প্রায় এক যুগ পর আয়োজিত এবারের নৌকাবাইচের সীমানা নির্ধারণ করা হয় কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর এলাকা থেকে বাল্লা ইউনিয়নের খেরুপাড়া ঘাট পর্যন্ত। প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে ছুটে চললে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দর্শনার্থীরা।
প্রতিযোগিতায় ঘিওর উপজেলার নকিববাড়ি, দিয়াইলের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, সোনারচান-২, গায়ান বাড়ি, গায়ান তরী ও হাজারি তরীসহ বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়।
দুপুর থেকেই ইছামতি নদীর দুই পাড়ে শুরু হয় দর্শনার্থীদের ভিড়। নানা রঙ ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত নৌকা নিয়ে মাঝিদের প্রস্তুতি আর প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বিকেল গড়াতেই নদীর বুকে শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কাঁশির বাদ্যের তালে তালে মাঝিদের নেচে-গেয়ে বৈঠা চালানো এবং ‘হেইও হেইও’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের করতালি ও ধ্বনিতে জমে ওঠে নৌকাবাইচ। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রায় কয়েক হাজার মানুষ এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করেন।
মেয়েকে সাথে নিয়ে এসেছেন সায়েম খান। তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যাও দেখেছি কিছু কিন্তু আমাদের পরের যে প্রজন্ম আসতেছে তারা এগুলো থেকে বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছে। এখানে আমার মেয়েকে নিয়ে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা চাই এমন আয়োজন প্রতিবছরই হোক।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় "সোনারচান-২" নামের একটি নৌকা। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নগদ টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে আজ প্রায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। এটি আমাদের বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ। এমন আয়োজন প্রতিবছর হোক এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


