

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের রাউজানে মোহাম্মদ করিম (৩৬) নামের এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় করিমকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এর আনুমানিক ৫-৬ ঘণ্টা পর স্থানীয় সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত রায়হান আলমের ফেসবুক স্টোরিতে একটি নাইন এমএম পিস্তল থেকে পরপর তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়ার ভিডিও দেখা যায়। তবে ভিডিওটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত করিম উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শফির ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উরকিরচরের কেরানিহাটসংলগ্ন সড়কে দুর্বৃত্তরা করিমের বুকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
করিম হত্যার পর রায়হানের ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশিত অস্ত্রের ভিডিওটি স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওটির সময়, স্থান এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রায়হানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র তাকে রাউজানের অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে বিচারাধীন।
নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, উরকিরচরের কেরানিহাট এলাকায় একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত করিমের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ছয় থেকে সাতটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। রাউজানকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিষয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।


