

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানীর মালিকানাধীন মানিকগঞ্জের ‘চাপওয়ালা’র শ্বশুরবাড়ি’ রেস্টুরেন্টে এক কাস্টমারকে কুপিয়ে জখমসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আতিকুর রহমান খানের চাচা মোঃ খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলেন- মোঃ ইমরান (২৪), মোঃ লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান ৪-৫ জন বন্ধুকে নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে আসামিরা দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ করছেন- এমন অভিযোগে তিনি ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করেন।
এতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগীরা দৌড়ে মূল সড়কের দিকে যান।
এসময় আসামি ইমরান ধারালো ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে লিখন লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী খলিলুল রহমান খান বাদল অভিযোগ করেন, রেস্টুরেন্টে একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তার ভাতিজা প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রেস্টুরেন্টটির ম্যানেজার কিরণ খান বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি তার জানা নেই।
চিত্রনায়ক ওমর সানী জানান, জনবল সংকটের কারণে লিখন নামের একজনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার স্বভাব-চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
তিনি দাবি করেন, লিখন মাদকাসক্ত ও অসদাচরণকারী হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কেন একজন কাস্টমারের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো- সেটি তার কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ফোন করে অবহিত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লিখনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকরাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন