বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপদসীমা ছুঁয়ে শেষমেশ নিচে নামল তিস্তা, কমেছে বন্যার শঙ্কা 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ভারি বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে উঠলেও দিন শেষে তা নিচে নেমে আসে। বন্যা আতংক কেটেছে তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৩ মিটার। যা বিপদসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সকাল ৬টা ও ৯টায় পানি বিপদসীমার ১৩ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নদীপাড়ের মানুষ ও বন্যা সতর্কিকরন কেন্দ্র জানায়, ভারি বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ মঙ্গলবার রাত থেকে বাড়তে থাকে এবং বিপদসীমা অতিক্রম করে। বুধবার সকাল ৬ টা ও ৯ টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে। ফলে তিস্তা নদীর উভয় পাড়ের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানির চাপ দেখে আতংকিত হয়ে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ।

বেলা গড়ার সাথে সাথে পানির চাপ কমতে শুরু করে এবং সন্ধ্যা ৬ টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। এতে বন্যার শ্বঙ্কায় ছড়িয়ে পড়া আতংক কেটে যায় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের। ধিরে ধিরে মুক্তি পেতে থাকে পানিবন্দি পরিবারগুলো। এভাবে গেল ২৪ ঘন্টায় তিস্তা নদীতে পানি উঠা-নামার খেলা চলে। তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যায় ডুবে যায়।

তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, রাত থেকে হুহু করে বাড়ে পানি। দিনভর বাড়তে থাকে। বিকেল হতেই পানি কমতে শুরু করে। ঘর বাড়ি থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এ বছর স্বল্প মেয়াদী বন্যা হলেও দীর্ঘ মেয়াদী বড় কোন বন্যা হয়নি। গতরাতে পানির চাপ দেখে বড় বন্যায় আশংকায় আমরা আতংকিত ছিলাম।

উত্তর ডাউয়ামারী গ্রামের মাহফুজ জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রাস্তা ঘাট ডুবে গেছে বন্যার পানিতে । আমাদের গ্রামের সকল বাড়িতে হাটু বা কোমড় পানি উঠেছিল। স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, বিকেল হতেই পানি কমতে শুরু করে এবং ঘর বাড়ি থেকে পানিও নেমে যেতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে দুপুরে তা কমতে শুরু করে সন্ধ্যায় তা বিপদসীমার নিচে নেমে আসে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। মুলত উজানের চাপে স্বল্প মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও আপাতত দীর্ঘ মেয়াদি বন্যার কোন শ্বঙ্কা নেই।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন