

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার আসামি বিধান চন্দ্রের দুটি গরু নিলামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গোলাম কিবরিয়া রিপন ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজেই নিলাম পরিচালনা করছেন এবং একাধিকবার দর হাঁকার পর গরু দুটি ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে গরু নিলামের কারণ ও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। গরুর টাকা উদ্ধারে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করেছি। গরু নিলামের টাকা কোথায় আছে, গরু কেন বিক্রি করা হলো তা খতিয়ে দেখছি।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, গরু বিক্রি করেছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন জানে না। গরুর টাকা আমাদের কাছে জমা আছে। আসামির জামিন হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আপনি দেখা করেন, এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা হবে।
আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, গরু বিক্রির বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না।
গরু বিক্রি করা যাবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গরু বা আসামির সম্পত্তির নামে মামলা হয়নি। মামলা হয়েছে আসামির নামে। তাই নিলামে ওই গরু বিক্রি করে তিনি অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দি ও মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী স্থানীয় কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে। আগের দিন বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার হলে এলাকার মানুষদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
উত্তেজিত গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত বিধান বর্মণের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করে আগুন লাগানো বাড়ির ভেতর থেকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়।
পরে নিহত শিশু নন্দিনী বাবা নলনী বর্মণ বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি বিধান বর্মণকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনা স্বীকার করলে তাকে ও তার বাবাকেও কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
