

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটের সরকারী আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও শ্রীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার(২১ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, সরকারী আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক(তথ্য প্রযুক্তি) জাহিদ ইমাম শান্ত ও একই প্রতিষ্ঠানের ভকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক(টেকনিক্যাল) নারায়ন চন্দ্র।
অভিযোগে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আদিতমারী জিএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর জাতীয়করন করে সরকার। ঐতিহ্যবাহি এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় সকল পাবলিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহি এ প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত প্রতিষ্ঠানের অদুরে তার নিজেস্ব বাসা। সেখানে প্রতিদিন এ প্রতিষ্ঠানসহ পাশ্ববর্তি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে। প্রাইভেট পড়তে যাওয়া নিজ প্রতিষ্ঠানের ভকেশনাল শাখার ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করেন শিক্ষক শান্ত। তার স্ত্রী সন্তান বাড়িতে না থাকলেই ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি আর নম্বর বেশি দেয়ার প্রলোভনে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
অপর দিকে প্রতিষ্ঠানের পাশে রুম ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ান ভকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র। তিনি সেখানে পড়তে যাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি বাড়িতে জানালে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রথমে মৌখিক পরে গত ১৪ জুন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে জাহিদ ইমাম শান্তের কাছে ধর্ষিত শিক্ষার্থী পর দিন ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। দু'টি ঘটনাই কিছু দিন গোপন থাকলেও ১৭জুন প্রকাশ পায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের শোকজন করলেও জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদেরকে ২৫জুন পর্যন্ত বাধ্যতা মুলক ছুটিতে পাঠায়। এ ঘটনা তদন্তে গত ১৭জনু ৩ সদস্য করে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে ঘটনাটি গোপনে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে এমন গুজবে সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। নানান ভাবে সমালোচনার মুখে পড়ে ঐতিহ্যবাহি এ প্রতিষ্ঠানটি। ন্যায় বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা রোববার প্রতিষ্ঠানটির মুলফটকে বিক্ষোভ মিছিল করে লম্পট শিক্ষকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পরে থানা পুলিশ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলে বিদ্যালয় গেট ত্যাগ করে বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনা জানাজানির পর থেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন নির্যাতীত দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়ায় কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কিছু দিন ধরে বিদ্যালয়টিতে ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কমে এসেছে। যা নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকের আচরন যদি এমন হয়। তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে কি শিখবে। আমরা শিক্ষার্থীদের এখন বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। আমরা চাই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এমন দুঃচরিত্রের শিক্ষকদের বিদ্যালয় থেকে বিতারিত করা উচিৎ।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, দু'টি ঘটনার ঘটনাস্থল প্রতিষ্ঠানের বাহিরে হলেও অভিযুক্ত ও ভিক্টিম এ প্রতিষ্ঠানের। এটা নিয়ে আমরা লজ্বিত। ঐতিহ্যবাহি এ বিদ্যালয়টির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে দুইজন করে নারী শিক্ষক ও একজন করে পুরুষ শিক্ষক রয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত বলেন, আমি ভকেশনাল শাখার ক্লাস বা প্রাইভেট কোনটাই পড়াই না। যে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে সে আমার প্রাইভেটেও আসে না। আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করতে একটি চক্র ওই ছাত্রীকে দিয়ে ফাসিয়ে দিয়েছে।
সরকারী আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আরা সিদ্দিকা বলেন, মৌখিকে পরে লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে বাধ্যতামুলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত আতংক কাটিয়ে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অভিভাবকদের নিয়ে ফোনে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
বিদ্যালয়টির সভাপতি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা'র দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটি করেছেন। সরকারী বিদ্যালয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। তদন্ত প্রতিবেদন এলে প্রধান শিক্ষকে আমাকে অবগত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তারা ব্যবস্থা গ্রহন করবে।