সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামানত হারালেন জাপার সাবেক মহাসচিব রাঙ্গা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
মসিউর রহমান রাঙ্গা
expand
মসিউর রহমান রাঙ্গা

একসময়ের প্রতাপশালী মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এবং পরিবহন খাতের শীর্ষ নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লেগেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের জন্মভূমি লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে লড়ে শুধু পরাজিতই হননি, রীতিমতো ধস নেমেছে তাঁর ভোটব্যাংকে। চতুর্থ অবস্থানে থেকে হারিয়েছেন নির্বাচনী জামানত।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঙ্গার এই ভরাডুবির পেছনে কাজ করেছে একাধিক নেতিবাচক ইস্যু। নির্বাচনের আগমুহূর্তে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই অর্থ কেলেঙ্কারি তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। এছাড়াও নিজের জন্মস্থান হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন এই এলাকার মানুষের সাথে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার পরিবর্তে একাধিক বডিগার্ড নিয়ে 'জমিদারি' কায়দায় প্রচারণা চালানোয় ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরিবহন সেক্টরে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জনমনে তাঁর প্রতি তীব্র অনাস্থা তৈরি হয়। ‎ ​জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার, ক্ষমা চেয়ে ফেরা এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করাকেও ভোটাররা ভালোভাবে নেননি। ‎​ ‎​লালমনিরহাট-১ আসনে লড়াই হয়েছে মূলত দ্বিমুখী। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ​বিজয়ী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধান ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার ​নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (জামায়াতে ইসলামী) পেয়েছেন ১,২৯,৫৭২ ভোট। শিহাব আহমেদ (স্বতন্ত্র - ঘোড়া) প্রতীকে ৭,৯৫৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। আর মসিউর রহমান রাঙ্গা (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকে ৫,১৫২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। ‎ ‎সেক্ষেত্রে ​নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মোট কাস্টিং ভোটের নির্দিষ্ট অংশ না পাওয়ায় রাঙ্গার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ‎​ ‎​মসিউর রহমান রাঙ্গা ২০১৪ সালে রংপুর-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৮ সালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাপার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ভাটা পড়ে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে। ‎ ‎​ভরাডুবির বিষয়ে সোমবার বিকেলে মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি হতাশা মেশানো কণ্ঠে বলেন, "নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। গত ১৭ বছর এমপি ছিলাম, মন্ত্রী ছিলাম, আমার আর নতুন করে কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন