

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তিস্তা ধরলা আর সানিয়াজান নদী বেষ্টিত জেলা লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারনে বড় ভুমিকা রাখতে পারে তৃণমুল আওয়ামীলীগের ভোটাররা। তাই আসন্ন নির্বাচনে সবার দৃষ্টি মাঝিহীন নৌকার সমর্থকদের দিকে। সকলের প্রশ্ন কোন দিকে যেতে পারে এ অংশের সমর্থন। যেদিকে গড়বে তারাই নেতৃত্বে আসবে এমনটাই ধারনা তিস্তাপাড়ের ভোটারদের।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা ও দুই পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৩টি সংসদীয় আসন। জেলার তিনটি আসনে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন বিএনপি, জামায়াত, জনতার দল, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে ২০জন প্রার্থী। প্রার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে প্রচারনায় মুখর করেছেন নির্বাচনী মাঠ। প্রচার প্রচারনা শেষে এখন চলছে ভোটারদের চুল ছেড়া বিশ্লেষন। প্রচারনা শেষ হলেও মাঠ ঘাটে ভোটারদের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনা। কার ভোট বেশি? কে কোন দিকে এগিয়ে? সেই হিসাব কষতে ব্যস্থ ভোটাররা। যার ফল আসবে ব্যালটের মাধ্যমে।
তিস্তাপাড়ের এ জেলার ভোটারদের মুখে একটিই প্রশ্ন? আসন্ন নির্বাচনে মাঝিহীন নৌকার সমর্থকদের সমর্থন কোন দিকে? সেই আলোচনাই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে। ভোটারদের ধারনা, আওয়ামীলীগের নেতারা বাহিরে থাকলেও তাদের তৃনমুলের বিপুল পরিমান সমর্থক কোন দিকে গড়ছে? । তাই সকলের দৃষ্টি এখন মাঝিহীন নৌকার যাত্রীদের দিকে।
তৃণমুল আওয়ামীলীগের সমর্থকদের দাবি, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে যারা দক্ষতার পরিচয় দিবে এবং সুরক্ষা দিতে পারবে তাদের দিকে যেতে পারে। তারা আগামী দিনের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আওয়ামীলীগের পতনের পর থেকে মামলা আতংকে থাকা এসব পরিবার অনেক হিসাব কষছেন ভোটাধিকার প্রয়োগে।
চা বিক্রেতা আজিজুল বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের সমর্থকরা তো ভোটার। ভোট তো দিবে তারা। তাদের সমর্থনই হতে পারে তিস্তাপাড়ের ৩টি আসনের আগামীর নেতৃত্ব। এমনটাই আলোচনায় আসছে ভোটের মাঠে। যারাই নির্বাচিত হোক, আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে আসতে হবে।
অটোচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার ৩টি আসনেই আওয়ামীলীগের এমপি ছিলেন। তাদের তো ভোটাররা রয়েছে। এসব ভোটার তো এ নির্বাচনে ভাসমান। এ ভাসমান ভোট যেদিকে গড়বে তারাই এগিয়ে থাকবে।
কালীগঞ্জের দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, সকল দলের লোকজন তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট দিবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থকরাই বড় ভুমিকা রাখবে। তারা যে দিকে গড়বে আগামীর নেতৃত্ব সেদিকে যেতে পারে।
লালমনিরহাটের ৩টি আসনে ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ৩জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন। তবে জেলার ৩টি আসনের ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে নেই কোন নারী প্রার্থী। তবুও সকল প্রার্থী ঝুকছেন নারী ভোটারদের দিকে।
ভোটাররা মনে করছেন, সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট ৩ আসনে বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু'র সাথে দ্বিমুখী লড়াই হতে পারে জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের। আদিতমারী কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট ২ আসনে ত্রি-মুখী লড়াই হতে পারে। এ লড়াইয়ের অগ্রভাগে রয়েছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু(দাঁড়ি পাল্লা), জেলা বিএনপি'র সহ সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল(ধানের শীষ) ও জনতার দলের চেয়ারম্যান অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল(কলম)। পাটগ্রাম হাতীবান্ধা উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট ১ আসনে বিএনপি'র সদস্য ব্যারিষ্টার হাসান রাজিব প্রধানের(ধানের শীষ) সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের সুরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম রাজু(দাঁড়িপাল্লা)।
মন্তব্য করুন