

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে দ্রুত বিচারও দাবি করেন তারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একাডেমির ছাত্রাবাসে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে অবস্থানরত দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ছাত্রাবাসের নিয়ম অনুযায়ী রাত ১১টার মধ্যে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। তিনি শুনেছেন, সোমবার রাতে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে একটি কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই।
তিনি আরও জানায়, মঙ্গলবার ক্লাস শেষে তারা রুমে ফিরে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। বিকেলে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দেখতে পায়, ষষ্ঠ তলায় থাকা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে কয়েকজন কাঁধে করে নিচে নামিয়ে আনছে। পরে তারা জানতে পারে, মেহেদী গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নিহত মেহেদী হাসানের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোন করে জানায়, আমার ছেলে অসুস্থ। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত স্কুলে আসি। কিন্তু এসে শুনি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এখানে আছি, কিন্তু তারা এখনো আমার ছেলেকে আমাদের কাছে দেয়নি।’
হায়দার নামে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মাগরিবের আজানের কিছু আগে তিনি দেখেন, দুই শিক্ষার্থী একটি রিকশায় করে মেহেদীকে প্রশাসনিক ভবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে একটি গাড়িতে করে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই তিনি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজন দাবি করেন, এর আগেও এ প্রতিষ্ঠানে একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ একাডেমি ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে। তারা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে দ্রুত বিচারের আহ্বান জানান।
সংবাদ পেয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান এবং রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তারা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে উপস্থিত উত্তেজিত জনতার একটি অংশ অভিযোগ করে, এ ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক জড়িত থাকতে পারেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা একাডেমি ক্যাম্পাসে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় একাডেমি ভবনের ভেতরে থাকা একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
পরে রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।