

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ নতুন নির্বাহী দায়িত্ব হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে দায়িত্ব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং চিকিৎসা প্রটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। রোগীসেবার পরিবেশ উন্নত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে এবং আলো-বাতাস চলাচলসহ পরিবেশগত উন্নয়নের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। কর্পোরেট অফিসের ওপর থাকা একটি বেকারিও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনের অধীনে ৯টি হাসপাতাল, ৫টি মেডিকেল কলেজ, ১টি নার্সিং কলেজ, ৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ১টি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শুধুমাত্র আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মগবাজার, ঢাকায় বিগত ২৯ বছরে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৯১ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুন ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এই হাসপাতালের সাথে সরাসরি ১,৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী যুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী।
বর্তমানে এই আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দুই সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ।
